পরিচয়পত্রে বিভ্রান্তি! আ*তঙ্কে আ*ত্মঘাতী গৃহবধূর মৃ*ত্যু ঘিরে জল্পনা

পরিচয়পত্রে নামের সামান্য ভিন্নতা আর সেই বিভ্রান্তি থেকেই মানসিক চাপে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হল এক গৃহবধূকে। বালাভুত গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্য বালাভুত এলাকায় হাচেনা বিবির মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে এখন প্রশ্নের মুখে নির্বাচন ব্যবস্থার ভূমিকা, মানুষের তথ্য সংশোধনের সুযোগ ও প্রশাসনিক সহায়তা।

নিজের শোবার ঘর থেকে ওই মহিলার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবার জানিয়েছে, আধার কার্ডে নাম হাচেনা বিবি, কিন্তু ভোটার কার্ডে নাম নথিভুক্ত হয়েছে হাচেনা রিবি হিসাবে। এই বানানের অমিল থেকেই আতঙ্কে ছিলেন হাচেনা। আশঙ্কা করছিলেন, এই ভুলের কারণে তাঁকে বিদেশি বলে চিহ্নিত করা হতে পারে কিংবা ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে এমন ধারণায় তিনি কয়েকদিন ধরে অস্থির ছিলেন বলে পরিবারের অভিযোগ।

পরিবারের সদস্যরা জানান, একাধিকবার স্থানীয়দের কাছে বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ চেয়েছিলেন হাচেনা। আশপাশের মানুষ তাঁকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেও তার মানসিক উদ্বেগ কাটেনি।

ঘটনার পর বুধবার মৃতার বাড়িতে যান জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক। পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি দাবি করেন, “ভোটার তালিকা সংশোধনে জটিলতা ও কমিশনের কড়া পরিবেশ সাধারণ মানুষের আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলছে।” তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন।

রাতে সেখানে যান কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষও। তাঁর মতে, পরিচয়পত্র সংশোধনের প্রক্রিয়া সহজ না হলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

স্থানীয় মহলের মন্তব্য, পরিচয়পত্র সংক্রান্ত বিভ্রান্তি ও সরকারি নথিতে বানান ভুল এই সমস্যা বহু মানুষের মধ্যেই রয়েছে। কিন্তু সচেতনতার অভাব ও সঠিক পরামর্শ না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রায়ই অযথা আতঙ্কে ভোগেন।

হাচেনা বিবির মৃত্যুর পর আবারও সামনে এল প্রশ্ন, পরিচয়পত্রে ভুল সংশোধনের ব্যবস্থা কি আরও সহজ হওয়া উচিত নয়?

ভোটার তালিকা সংক্রান্ত হইচই কি মানুষের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ভয় তৈরি করছে?

পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে একটি প্রশ্ন এখন এলাকা জুড়ে ঘুরছে একটি বানানের ভুল কি একজন মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে?