জলপাইগুড়ি সংশোধনাগারে ফাঁসির আসামির রহস্যমৃত্যু, চাঞ্চল্য

জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম সুরেশ রায়, শিলিগুড়ির উদয় কলোনির বাসিন্দা। খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে গত ২৯ মার্চ জলপাইগুড়ি আদালত তাকে ফাঁসির সাজা দেয়। সেই থেকে তিনি সংশোধনাগারের একটি পৃথক সেলে বন্দি ছিলেন।

শুক্রবার রাতে সেলের ভেতরে তার গলায় জামার ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেহ উদ্ধার হয়। কারারক্ষীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে জেলের হাসপাতলে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখা হলেও, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুরেশ রায় তার পিসতুতো ভাই শঙ্কর দাসকে ২০২১ সালের মার্চ মাসে নৃশংসভাবে খুন করেন। শঙ্কর দাস তাকে ইভটিজিং করা থেকে বাধা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ, যা নিয়ে তার মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। প্রকাশ্য রাস্তায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ১৮ বার আঘাত করে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন সুরেশ। বিচার প্রক্রিয়ায় ১২ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে।

মাত্র চার মাসের মধ্যে এই রহস্যজনক মৃত্যু সংশোধনাগারের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েক মাস আগেই একই সংশোধনাগারে বিচারাধীন এক পকসো মামলার আসামি গলায় ফাঁস লাগিয়ে মারা যান। এক মাসের মধ্যে দুই বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটায় সংশোধনাগারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।