এনসিইআরটি (NCERT) এখন নাগপুরের ইশারায় চলছে: পাঠ্যপুস্তক নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের তোপ

ভারতের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক সংশোধন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে জাতীয় কংগ্রেস। সম্প্রতি এনসিইআরটি (NCERT) কর্তৃক পাঠ্যবই থেকে মুঘল ইতিহাস, গুজরাট দাঙ্গা এবং মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত কিছু অংশ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। কংগ্রেসের দাবি, এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) বিশেষ মতাদর্শ। দলের পক্ষ থেকে তীব্র কটাক্ষ করে বলা হয়েছে যে, এনসিইআরটি-র আসল নাম এখন বদলে ‘নাগপুর কমিউনাল ইকোসিস্টেম ফর রিরাইটিং অফ টেক্সটবুকস’ রাখা উচিত। কংগ্রেসের অভিযোগ, বর্তমান সরকার প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করে আগামী প্রজন্মের কাছে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। নাগপুর হলো আরএসএস-এর সদর দপ্তর, আর সেই সূত্র ধরেই কংগ্রেস ইঙ্গিত দিতে চেয়েছে যে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখন সরাসরি নাগপুরের নিয়ন্ত্রণাধীন।

কংগ্রেসের এই সমালোচনার জবাবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক এবং এনসিইআরটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, এই পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পড়াশোনার চাপ কমানোর জন্য। কোভিড পরবর্তী সময়ে সিলেবাসের বোঝা হালকা করতে এবং অপ্রাসঙ্গিক অংশ বাদ দিতেই এই ‘র‍্যাশনালাইজেশন’ বা যুক্তিকরণ প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। তবে বিরোধী দলগুলো এই যুক্তি মানতে নারাজ। তারা মনে করে, ইতিহাসের অপ্রিয় সত্যগুলো মুছে দিয়ে একটি কাল্পনিক বা একপাক্ষিক ইতিহাস চর্চা শুরু হয়েছে যা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক। জয়রাম রমেশের মতো প্রবীণ কংগ্রেস নেতারা টুইট করে জানিয়েছেন যে, পাঠ্যবই থেকে ডারউইনের বিবর্তনবাদ বা পর্যায় সারণি (Periodic Table) বাদ দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তগুলো বিজ্ঞানমনস্কতার বিরোধী। এই বিতর্ক এখন কেবল রাজনীতির আঙিনায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং শিক্ষাবিদ ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।