ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি সংসদের বাজেট অধিবেশনে চলমান ইরান যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সোমবার রাজ্যসভায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসরত প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা বর্তমানে ভারত সরকারের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়। গত ১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে গঠিত নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিএস) বৈঠকে ইরানের ওপর হওয়া বিমান হামলা এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। জয়শঙ্কর উল্লেখ করেন যে, তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সম্পূর্ণ সক্রিয় রয়েছে এবং যুদ্ধকবলিত এলাকায় আটকে পড়া শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। বিশেষ করে কাতার, জর্ডান এবং ইরানে আটকে থাকা ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সব ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, এই যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে, যা সরাসরি ভারতীয় ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থ বজায় রেখে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ ছাড়াও তিনি যুদ্ধের ভয়াবহতা ও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান। জয়শঙ্কর পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সংলাপ এবং কূটনীতিই এই সংকট নিরসনের একমাত্র পথ। বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তিনি জানান যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
