কলকাতা, ১১ সেপ্টেম্বর: বহুল আলোচিত এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমাকে মুক্তি দিন, সমাজের সামনে দাঁড়াতে দিন”। তিনি অভিযোগ করেন, গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায় অযথা তাঁর ঘাড়ে চাপানো হয়েছে, যেখানে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ এসএসসি-র হাতেই ছিল।
আদালতে পার্থ বলেন, “আমি শিক্ষামন্ত্রী ছিলাম, কিন্তু যাঁরা নিয়োগ করেছেন, তাঁরা আমার অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন। আমি এসপি সিনহার নিয়োগ কর্তা ছিলাম না। অশোক সাহা, সুবীরেশ, কল্যাণময়—তাঁরা সবাই আমার মন্ত্রী হওয়ার আগেই এসএসসি-তে পদে ছিলেন”।
বিচারক এদিন চার্জগঠনের আগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক অভিযোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “অশোক সাহাকে চেয়ারম্যান করেছিলেন, নিয়ম ভেঙে একাধিক পদে নিয়োগ হয়েছে, ভুয়ো নথিকে আসল হিসেবে দেখানো হয়েছে”।
পার্থ চট্টোপাধ্যায় পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, “আমার সামাজিক সম্মান আছে। আমি ২৫ বছর ধরে একটি অঞ্চল থেকে পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছি। জেলের অন্ধকারে রেখে আমাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। যারা অন্যায় করেছে, তাঁদের কিছু হচ্ছে না। আমার দোষটা কোথায়?”
এই মামলায় ইতিমধ্যে পার্থ-সহ একাধিক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করেছে সিবিআই। মামলার শুনানি চলাকালীন পার্থের এই মন্তব্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মুক্তির আবেদন গ্রহণযোগ্য কি না, তা এখন বিচার ব্যবস্থার উপর নির্ভর করছে। মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ রাজ্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
