তালেবানের ‘জিম্মি কূটনীতি’: আফগানিস্তানকে অন্যায়ভাবে বন্দি করার দেশের তালিকায় যুক্ত করল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তানকে ‘অন্যায়ভাবে বন্দি করার পৃষ্ঠপোষক’ (State Sponsor of Wrongful Detention) হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। গত ৯ মার্চ, ২০২৬ তারিখে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই ঘোষণা দেন। মূলত মার্কিন নাগরিকদের আটক করে সেটিকে রাজনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ার বা ‘জিম্মি কূটনীতি’ হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগে তালেবান শাসিত আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইরানকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় আফগানিস্তান দ্বিতীয় দেশ হিসেবে এই কালো তালিকায় জায়গা পেল। মার্কিন প্রশাসনের মতে, তালেবানরা আমেরিকান নাগরিকদের অন্যায়ভাবে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় বা রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তালেবানরা এখনও সন্ত্রাসী কায়দায় অপহরণ ও জিম্মি করার মাধ্যমে তাদের নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে আমেরিকান নাগরিকদের আফগানিস্তান ভ্রমণে চরম ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে দেন। বর্তমানে ডেনিস কোয়েল এবং মাহমুদ হাবিবির মতো বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিক তালেবানের হেফাজতে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মাহমুদ হাবিবি, যিনি একজন আফগান-আমেরিকান ব্যবসায়ী, ২০২২ সাল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। যদিও তালেবান বারবার তার আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে, তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে তাদের সম্পৃক্ততার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এই নতুন তালিকার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এখন তালেবানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ পাবে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজও তালেবানের এই কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, যে দেশ নারীদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয় এবং বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করে রাখে, তারা কীভাবে ১ বিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তার আশা করতে পারে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তালেবান যদি দোহা চুক্তির সম্মান রাখতে চায় এবং আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা ফিরে পেতে চায়, তবে তাদের অবশ্যই অবিলম্বে সমস্ত অন্যায়ভাবে আটক আমেরিকানদের মুক্তি দিতে হবে। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ দূত অ্যাডাম বোলার এবং কাতারের মধ্যস্থতায় বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিক মুক্ত হয়ে ফিরে আসলেও পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তালিকার অন্তর্ভুক্তি তালেবানের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা, যার ফলে ভবিষ্যতে দেশটিতে মার্কিন পাসপোর্টধারীদের প্রবেশে উত্তর কোরিয়ার মতো কঠোর বিধিনিষেধ আসতে পারে।