হরমুজ প্রণালীতে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে আমেরিকার প্রধান মিত্র দেশগুলো। ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে মিত্র দেশগুলোর এমন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউসে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটোভুক্ত বেশ কয়েকটি দেশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ওয়াশিংটন কোনো পূর্ব আলোচনা বা মিত্রদের সাথে পরামর্শ ছাড়াই এই সংঘাতের সূচনা করেছে, তাই এখন এর দায়ভার তারা নিতে ইচ্ছুক নয়। মিত্রদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, এই যুদ্ধ শুরুর আগে কোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা করা হয়নি, যার ফলে এখন মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বিবৃতিতে মিত্র দেশগুলোর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হলেও তা কোনো একক দেশের খামখেয়ালিপনার ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত নয়। ট্রাম্প প্রশাসন যেভাবে হুট করে মিত্রদের ওপর সামরিক ও আর্থিক চাপ প্রয়োগ করছে, তা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চরম অগ্রহণযোগ্য। বিশেষ করে জার্মানি ও ফ্রান্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, আলোচনার পথ পরিহার করে যুদ্ধের দামামা বাজানোয় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। তারা মনে করে, হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে শুরু হওয়া এই সংঘাতের দায় এখন বাকি বিশ্বের ওপর চাপিয়ে দেওয়া মার্কিন প্রশাসনের একটি অন্যায্য দাবি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে ‘অখুশি’ হয়ে পাল্টা হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও মিত্র দেশগুলো তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, যে যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি করতে তাদের ন্যূনতম মতামত নেওয়া হয়নি, সেই যুদ্ধে নিজেদের সেনা বা সম্পদ নিয়োগ করতে তারা বাধ্য নয়। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওয়াশিংটনের একাকীত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে এবং আটলান্টিক ওপারের দেশগুলোর সাথে আমেরিকার দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্কের ফাটলকে প্রকট করেছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার জন্য মিত্ররা সরাসরি ট্রাম্পের ‘একতরফা নীতি’কেই দায়ী করছে। এই কূটনৈতিক টানাপড়েন বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে দীর্ঘদিনের মিত্ররাও এখন মার্কিন আধিপত্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে।
