রাজ্যজুড়ে চলা ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ প্রকল্পের ব্যানারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি কেটে বা ঢেকে দেওয়ার অভিযোগ উঠে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয় স্তরে কয়েকটি ক্যাম্পের সামনে ঝোলানো ব্যানার ও ফ্লেক্সে এই ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পকে “নিরপেক্ষ” দেখানোর নামে শাসকদলের ভাবমূর্তিকেই আড়াল করা হচ্ছে, অথচ প্রকল্পের কৃতিত্ব দাবি করা হচ্ছে সরকারি প্রচারে। তাঁদের দাবি, এমন ‘সম্পাদিত’ ব্যানার সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং সরকারি যোগাযোগ নীতিরও ব্যত্যয় ঘটায়। অন্যদিকে শাসক ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, স্থানীয় আয়োজক কমিটি বা ভেন্ডরদের স্তরে “ডিজাইন-সম্পর্কিত ভুল” থেকে এই বিচ্যুতি হতে পারে; রাজ্যের নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, সরকারি ব্যানার/ফ্লেক্সে অনুমোদিত আর্টওয়ার্ক ও গাইডলাইন মেনে চলাই বাধ্যতামূলক। কোথাও তা লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মাধ্যমে কারণ দর্শানোর নোটিস ও সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে, মাঠপর্যায়ের আয়োজকদের জানানো হয়েছে—অনুমোদনহীন পোস্টার/ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না এবং যেগুলি নিয়মবহির্ভূত, তা দ্রুত সরিয়ে বা প্রতিস্থাপন করতে হবে।
‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো পাড়া-মহল্লা ও গ্রাম পর্যায়ে একজায়গায় নানাবিধ জনসেবা ও অভিযোগপত্র গ্রহণ, দ্রুত সমাধান এবং পরিষেবা সহজলভ্য করা। প্রকল্পের ব্র্যান্ডিং, তথ্যফলক ও নাগরিক যোগাযোগের জন্য নির্দিষ্ট ভিজ্যুয়াল গাইডলাইন আছে বলে প্রশাসনিক মহল জানায়। সেগুলি লঙ্ঘিত হলে দায় নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে কে, কেন এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যানার সম্পাদনা করেছে—তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট চিত্র মেলেনি। সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে ঘটনাগুলি নথিবদ্ধ করে জেলা প্রশাসনকে রিপোর্ট পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
