পূর্ব ভারতে স্নায়ু ও কিডনি–সম্পর্কিত রোগের বাড়তে থাকা প্রবণতার পরিপ্রেক্ষিতে, পূর্ব ভারতের অন্যতম শীর্ষ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী মণিপাল হাসপাতালস গ্রুপের অন্তর্গত মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর আজ বর্ধমানে তাদের বিশেষ উদ্যোগ ‘অন্বেষণ– মেডিক্যাল এডুকেশন ফর মিডিয়া’–র অধীনে একটি ইন্টার্যাক্টিভ সচেতনতা সেশন আয়োজন করে।
এই সেশনে মণিপাল হাসপাতালস কলকাতার বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ছিলেন ডঃ জয়ন্ত রায়, ডিরেক্টর ও অ্যাডভাইজার এবং রিজিওনাল হেড (ইস্ট) – নিউরোলজি, মণিপাল হাসপাতালস এবং ডঃ অভিনন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্লিনিক্যাল লিড – নেফ্রোলজি ও কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট, মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর। অনুষ্ঠানে বর্ধমানের কনসালট্যান্ট ফিজিশিয়ান ডঃ সৌম্য সরকার উপস্থিত ছিলেন, পাশাপাশি জেলার সেইসব রোগীরাও অংশ নেন যারা বর্তমানে মণিপাল হাসপাতালে এই বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন।
সেশনে বিশেষজ্ঞরা স্নায়ু ও কিডনি রোগের পরিবর্তিত প্রবণতা, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণের গুরুত্ব এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক অগ্রগতির বিষয়ে আলোকপাত করেন। একই সঙ্গে, সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে রোগীর সুস্থতা ও চিকিৎসার ফলাফলে যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, তাও তাঁরা তুলে ধরেন।
‘অন্বেষণ’ শব্দটি সংস্কৃত থেকে এসেছে, যার অর্থ “অনুসন্ধান ও আবিষ্কার”। এই উদ্যোগ মণিপাল হাসপাতালের জ্ঞান–বিনিময়, দায়িত্বশীল তথ্যপ্রচার এবং জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরদার করে।
সম্মেলনে ৬২ বছর বয়সী ব্রেন স্ট্রোক–জয়ী অভিজিৎ দাস ডঃ জয়ন্ত রায়ের দীর্ঘদিনের চিকিৎসাধীন থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং মণিপাল হাসপাতাল থেকে পাওয়া চিকিৎসা ও মানসিক ভরসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, ৫২ বছর বয়সী গৃহবধূ শাকিলা বানু ডঃ রায়ের তত্ত্বাবধানে মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস—একটি দীর্ঘস্থায়ী অটোইমিউন নিউরোমাসকুলার রোগ, যা পেশির দুর্বলতা সৃষ্টি করে—থেকে সফলভাবে সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি জানান, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের সিদ্ধান্তই তাঁকে পুনরায় সুস্থ জীবনযাত্রায় ফিরে আসতে সহায়তা করেছে এবং তাঁর জীবনমান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে। এই অভিজ্ঞতাগুলির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ৫৩ বছর বয়সী ব্যবসায়ী শেখ আলম গির তাঁর অনুপ্রেরণাদায়ী সুস্থতার গল্প শেয়ার করেন। কয়েক বছর আগে শরীরের নীচের অংশে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ার পর যখন স্থানীয় চিকিৎসকেরা আশাহত হয়ে পড়েছিলেন, তখন ডঃ জয়ন্ত রায়ের সময়োপযোগী চিকিৎসা ও নিবেদিত পরিচর্যা তাঁকে নতুন করে বেঁচে থাকার আশা ও জীবনের নতুন দিশা দেখিয়েছিল।
স্নায়ুবিষয়ক উদ্বেগ নিয়ে ডঃ জয়ন্ত রায় বলেন, “গত দশ বছরে ভারতে স্নায়ুরোগ প্রায় ৩০–৪০% বেড়েছে। স্ট্রোক ও ডিমেনশিয়া এখন সবচেয়ে উদ্বেগজনক সমস্যা। মণিপাল হাসপাতালে আমাদের ‘কমপ্রিহেন্সিভ নিউরো টিম’-এ রয়েছেন নিউরোলজিস্ট, নিউরোসার্জন, নিউরো–ইন্টারভেনশন বিশেষজ্ঞ, নিউরো–রেডিওলজিস্ট এবং নিউরো–রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞরা—যারা মিলে রোগীকে সমন্বিত ও পূর্ণাঙ্গ সেবা দেন।উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতায় আমাদের পেডিয়াট্রিক আইসিইউ, স্ট্রোক প্রিভেনশন ক্লিনিক, নিউরোভাসকুলার রিসার্চ ইউনিট এবং জরুরি নিউরোলজি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রাথমিক স্ক্রিনিং থেকে উন্নত নিউরোইমেজিং ও পুনর্বাসন—সবই সহজলভ্য। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা রোগীর বাঁচার সম্ভাবনা ও দীর্ঘমেয়াদি মস্তিষ্কের সুস্থতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে সাহায্য করে।”
