মণিপাল হাসপাতালের ‘অন্বেষণ’ কাঁথিতে উন্নত গ্যাস্ট্রো ও অস্থি-চিকিৎসার দিশা দেখাল

পূর্ব ভারতে গ্যাস্ট্রো ও মাংসপেশী-অস্থি সম্পর্কিত রোগের বাড়তে থাকা প্রবণতার প্রেক্ষিতে, পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা মণিপাল হাসপাতাল গ্রুপের ইউনিট মণিপাল হাসপাতাল, ঢাকুরিয়া আজ কাঁথিতে তাদের স্বাক্ষরিত উদ্যোগ ‘অন্বেষণা – মেডিকেল এডুকেশন ফর মিডিয়া’–র অধীনে একটি ইন্টার‌্যাকটিভ সচেতনতা সেশন আয়োজন করে। সেশনে উপস্থিত ছিলেন ডা. গৌতম দাস, কনসালট্যান্ট – গ্যাস্ট্রো, মণিপাল হাসপাতাল, ঢাকুরিয়া এবং ডা. বিক্রান্ত সিনহা রায়, অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট – অর্থোপেডিকস, মণিপাল হাসপাতাল, ঢাকুরিয়া। তাঁরা অঞ্চলে বাড়তে থাকা পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা ও অর্থোপেডিক রোগের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে তাঁদের বিশেষজ্ঞ মতামত তুলে ধরেন। এই কর্মসূচিতে কাঁথির ডা. বিধান রায়, কনসালট্যান্ট – অর্থোপেডিকস,–এর উপস্থিতির পাশাপাশি কাঁথিরই একজন পুরুষ রোগীও উপস্থিত ছিলেন, যিনি বর্তমানে মণিপাল হাসপাতাল, ঢাকুরিয়ায় এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। আলোচনায় চিকিৎসকেরা রোগের পরিবর্তিত ধরণ, জীবনযাত্রাজনিত কারণ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণের গুরুত্ব এবং গ্যাস্ট্রোর মিনিমালি ইনভেসিভ পদ্ধতি ও আধুনিক অর্থোপেডিক চিকিৎসার সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে আলোকপাত করেন। তাঁরা জানান, সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে চিকিৎসার ফলাফল উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো হয় এবং রোগীর সামগ্রিক জীবনমানও উন্নত হয়। ‘অন্বেষণ’, যার অর্থ ‘অনুসন্ধান ও আবিষ্কার’, মণিপাল হাসপাতালের সহযোগিতামূলক শিক্ষণ, দায়িত্বশীল যোগাযোগ এবং জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করে।
গ্যাস্ট্রো রোগ বৃদ্ধির প্রসঙ্গে ডা. গৌতম দাস বলেন, “পূর্ব ভারতে গ্যাস্ট্রো সমস্যার হার ক্রমশ বাড়ছে, যার প্রধান কারণ অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এবং চিকিৎসার প্রাথমিক পর্যায়ে দেরি। ফ্যাটি লিভার, অ্যাসিডিটি-রিফ্লাক্স, ইনফ্লেমেটরি বোয়েল ডিজিজ এবং বিভিন্ন পেটের সংক্রমণ এখন সাধারণ হয়ে উঠছে এবং অনেক সময় নীরবে বাড়তে থাকে। মণিপাল হাসপাতালে আমাদের গ্যাস্ট্রো বিভাগ উন্নত এন্ডোস্কোপি, নিখুঁত ডায়াগনস্টিকস এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ দ্রুত শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে। থেরাপিউটিক এন্ডোস্কোপি, মিনিমালি ইনভেসিভ হস্তক্ষেপ এবং সম্পূর্ণ লিভার-ডাইজেস্টিভ কেয়ারের সুবিধা থাকায় আমরা রোগীদের নিরাপদ ও ফলপ্রসূ চিকিৎসা প্রদান করতে সক্ষম। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা হলে দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা অনেকটাই এড়ানো যায়।”
অর্থোপেডিক চিকিৎসার উন্নতি সম্পর্কে ডা. বিক্রান্ত সিনহা রায় বলেন, “আর্থ্রাইটিস, মেরুদণ্ডের সমস্যা, খেলাধুলাজনিত চোট ও বয়সজনিত হাঁড়ের ক্ষয়— এই সব সমস্যাই পূর্ব ভারতে দ্রুত বাড়ছে। অনেকেই প্রাথমিক ব্যথা বা চলাফেরার অসুবিধাকে গুরুত্ব দেন না, ফলে চিকিৎসা দেরিতে শুরু হয় এবং ফল কমে আসে। মণিপাল হাসপাতাল, ঢাকুরিয়ার অর্থোপেডিক দল ডিজিটাল এক্স-রে, উচ্চক্ষমতার এমআরআই, উন্নত ফিজিওথেরাপি ও মিনিমালি ইনভেসিভ পদ্ধতির সমন্বয়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা করে। রোবোটিক হাঁটু প্রতিস্থাপন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এখন আমরা আরও নিখুঁত সার্জারি, ব্যক্তিগতভাবে উপযোগী ইমপ্লান্ট, কম ব্যথা এবং দ্রুত পুনর্বাসনের সুবিধা দিতে পারছি। সংরক্ষণমূলক চিকিৎসা থেকে জটিল ট্রমা কেয়ার ও জয়েন্ট প্রিজারভেশন – সব ক্ষেত্রেই রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূর্ণ পরিষেবা দেওয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করাই চলাফেরা পুনরুদ্ধার ও ব্যথা কমানোর মূল চাবিকাঠি।”