বিজ্ঞাপনে কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত উপাদানের দায়িত্বশীল লেবেলিং সংক্রান্ত এএসসিআই-এর নির্দেশিকা

ভারতের বিজ্ঞাপন মান পরিষদ (এএসসিআই) বিজ্ঞাপনে কৃত্রিমভাবে তৈরি উপাদান (এসজিসি)-এর দায়িত্বশীল লেবেলিং সম্পর্কিত নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এই নির্দেশিকাগুলির মূল লক্ষ্য প্রযুক্তির পরিবর্তে উপাদানের ভোক্তা প্রভাবের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া। মূলত যখন কৃত্রিম বা এআই-ভিত্তিক উপাদানগুলি ভোক্তার বোঝাপড়া বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাস্তব প্রভাব ফেলে, তখন সেখানে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর কড়া জোর দেওয়া হয়েছে। প্রকাশের তারিখ থেকে তিন মাসের মধ্যে এই নির্দেশিকাগুলি কার্যকর হবে। ব্র্যান্ডগুলি যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন তৈরি করছে, তখন তা ভোক্তাদের ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে তা বিবেচনা করা জরুরি।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী বিষয়গুলোকে চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমত, কিছু নিষিদ্ধ বিষয় রয়েছে—যেমন ভুয়া প্রশংসাপত্র, পণ্যের ফলাফলের অতিরঞ্জিত রূপ, বা বিনা অনুমতিতে ডিপফেক বা কারো প্রতিকৃতি ব্যবহার করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ, এমনকি এআই লেবেল ব্যবহার করলেও এগুলো বৈধ হবে না। দ্বিতীয়ত, বাধ্যতামূলক লেবেলিংয়ের ক্ষেত্রে কৃত্রিমভাবে তৈরি ইনফ্লুয়েন্সার, কোনো বাস্তব ব্যক্তির কণ্ঠস্বর বা লাইসেন্সকৃত প্রতিকৃতি ব্যবহার এবং অমূলক পণ্যের প্রদর্শনীর ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে লেবেল দিতে হবে। তৃতীয়ত, রুটিন এডিটিং, রং সংশোধন, আলংকারিক উপাদান কিংবা সাধারণ টেক্সট ও সাবটাইটেল তৈরির ক্ষেত্রে কোনো লেবেলের প্রয়োজন নেই। চতুর্থত, যেখানে লেবেল বাধ্যতামূলক, সেখানে “এআই ব্যবহার করে তৈরি বা বর্ধিত অডিও/ভিডিও” এর মতো স্পষ্ট লেবেল ব্যবহার করতে হবে।

এএসসিআই-এর সেক্রেটারি জেনারেল এবং সিইও মনীষা কাপুর বলেছেন যে, বিজ্ঞাপনে এআই-এর ব্যবহার দ্রুত বিকশিত হচ্ছে এবং ভোক্তাকে কেন্দ্রে রেখেই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন যাতে সৎ, স্বচ্ছ এবং এএসসিআই কোডের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়, তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব বিজ্ঞাপনদাতাদের ওপরই বর্তায়।