শুধু প্রতিমা, ধূপধুনো আর ঢাকের বাদ্য নয়—শিলিগুড়ি শহরে বিশ্বকর্মা পুজো আজ পরিণত হয়েছে এক সামাজিক উৎসবে। ধর্মীয় আবহকে ছাপিয়ে সমাজসেবা, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি আর কচিকাঁচাদের সৃজনশীলতার জমজমাট আসরে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে শিলিগুড়ি বৃহত্তর ই-রিকশা ইউনিয়ন।
পুজো শুরুর দু’দিন আগে থেকেই ইউনিয়নের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ কর্মসূচি সাজানো হয়। এ বছরো শিলিগুড়ি অরবিন্দ পল্লীতে বিশাল আকৃতির প্রতিমা, সুসজ্জিত প্যান্ডেলের মধ্য দিয়ে পুজো শুরু হলেও আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল সামাজিক দায়িত্ববোধকে সামনে আনা।
পুজোর তৃতীয় দিনে কচিকাচাদের উৎসাহ দিতে আয়োজিত হয় বসে আঁকো প্রতিযোগিতা। সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে শিশুদের হাতে রঙ-তুলি আর ক্যানভাস। ছোটদের সৃজনশীলতায় মুগ্ধ অভিভাবকেরাও ভিড় জমান প্রতিযোগিতা মঞ্চে। ইউনিয়নের সভাপতি রাকেশ পাল জানান, “ধর্মীয় পুজোর পাশাপাশি আমরা চাই সমাজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিভা বিকশিত হোক। তাই কচিকাচাদের উৎসাহ দিতে এই প্রতিযোগিতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।”
শুধু সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নয়, সমাজসেবাতেও নজর কেড়েছে ই-রিকশা ইউনিয়নের আয়োজন। পুজো উপলক্ষে শহরের পিছিয়ে পড়া মানুষদের হাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবছরের মতো এবারও অসুস্থ রোগীদের জন্য বিশেষ প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে এই সামাজিক উদ্যোগে সামিল করতে প্রসাদ বিতরণও করা হয় উৎসবমুখর পরিবেশে।
পুজোর এই অভিনব আয়োজন ঘিরে শহরবাসীর উচ্ছ্বাস তুঙ্গে। একদিকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, অন্যদিকে সামাজিক দায়িত্ব ও শিশুদের প্রতিভা বিকাশ—সব মিলিয়ে এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটেছে। কচিকাচাদের অংশগ্রহণ ও সমাজসেবার এই উদ্যোগে খুশি অভিভাবকরা জানান, “শুধু পুজো করলেই হয় না, সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করাই আসল। ইউনিয়নের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”
শিলিগুড়ির বুকে বিশ্বকর্মা পুজো যেন হয়ে উঠেছে সামাজিক বন্ধনের উৎসব। ধর্মীয় ভক্তি আর মানবিকতার মেলবন্ধনই এই আয়োজনকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
