সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ, ২০২৬) ভোরে দুটি ড্রোন দূতাবাসের সীমানার ভেতরে আঘাত হানলে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং ভবনের আংশিক ক্ষতি হয়। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এই হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, কারণ হামলার সময় ভবনটি প্রায় খালি ছিল। ঘটনার পরপরই রিয়াদ, জেদ্দা ও দাহরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দূতাবাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভোরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দের পর দূতাবাসের কূটনৈতিক এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠতে দেখা যায়।
এই হামলার প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। নিউজনেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকার এই অপমানের জবাব খুব শীঘ্রই দেওয়া হবে। ট্রাম্প বলেন, “আপনারা খুব শীঘ্রই জানতে পারবেন আমাদের পাল্টা পদক্ষেপ কী হতে চলেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানি ভূখণ্ডে কোনো মার্কিন সেনা না পাঠিয়েই আকাশপথে এবং অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে শত্রু পক্ষকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন করা হচ্ছে। এই ড্রোন হামলাটি গত শনিবার ইরানজুড়ে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বাড়তে থাকা এই উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পুরো অঞ্চলটি এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
