যুক্তরাষ্ট্রে ‘সন্ত্রাসবাদের মানবিক মূল্য’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন করল ভারতীয় দূতাবাস

পহেলগাঁও হামলার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণ করতে এবং ভারতের ওপর, বিশেষ করে পাকিস্তান-পৃষ্ঠপোষিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের বিধ্বংসী প্রভাব তুলে ধরতে ভারতীয় দূতাবাস এক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন কোয়াত্রা এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য ছিল ২২ এপ্রিল, ২০২৫ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও হওয়া জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারানো ২৬ জন শিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং পাকিস্তান-ভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা তুলে ধরা। মার্কিন কংগ্রেসের প্রায় ১৯ জন সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং ভারত-মার্কিন সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সহযোগিতা জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এই ডিজিটাল প্রদর্শনীতে ১৯৯৩ সালের মুম্বই বোমা বিস্ফোরণ এবং ২০০৮ সালের মুম্বই হামলাসহ বিশ্বের প্রধান প্রধান সন্ত্রাসী হামলাগুলো প্রদর্শন করা হয়। এই ঘটনার জন্য দায়ী লস্কর-ই-তৈবা-সহ পাকিস্তান-ভিত্তিক একাধিক ব্যক্তি ও জঙ্গি গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২৩ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘X’-এ অনুষ্ঠানের ছবি শেয়ার করে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, “পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার শোকাবহ বার্ষিকী পালন এবং নিরীহ শিকারদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজ ক্যাপিটল হিলে ‘সন্ত্রাসবাদের মানবিক মূল্য’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।”

দূতাবাস আরও যোগ করেছে, “আমরা মার্কিন কংগ্রেসের ১৯ জন সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা, ডায়াসপোরা নেতা এবং অন্যান্য মার্কিন অংশীদারদের উপস্থিতির জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের অংশগ্রহণ ভারত-মার্কিন সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার এবং বিশ্বজুড়ে সব ধরণের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার যৌথ সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।” অনুষ্ঠান চলাকালীন রাষ্ট্রদূত কোয়াত্রা সব ধরণের সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা জানান এবং পুনরায় মনে করিয়ে দেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং তা বন্ধ করার বিষয়ে ভারতের অটল সংকল্প স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে বিশ্বের দেশগুলোকে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এই উপলক্ষে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ব্র্যাড শেরম্যান লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মহম্মদের মতো গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “হামলাকারীরা, যারা ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত, তারা নিরীহ মানুষকে লক্ষ্য করেছে এবং খবর অনুযায়ী ধর্ম দেখে ভিকটিমদের আলাদা করেছে। এই গোষ্ঠীটি পাকিস্তানে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাওয়া লস্কর-ই-তৈবা-র সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত।”