ইরান যুদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার সপ্তম দিনে যা ঘটছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ আজ সপ্তম দিনে পদার্পণ করেছে এবং সংঘাতের মাত্রা আরও তীব্র হয়েছে। আজ শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধের ‘পরবর্তী ধাপ’ ঘোষণা করে ইরানের রাজধানী তেহরান এবং লেবাননের বৈরুতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়, যার ফলে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে, লেবাননের বৈরুতে হিজবুল্লাহর আস্তানাগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক বোমাবর্ষণে এ পর্যন্ত অন্তত ১২৩ জন নিহত হয়েছেন। ইরানও বসে নেই; তারা পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিব লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার ফলে সেখানে আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে; ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র কুয়েত, কাতার, বাহরাইন এবং সৌদি আরবে আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় দুটি হোটেল ও একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে; ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা ১,২৩০ ছাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় এ পর্যন্ত ১১,০০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করার অঙ্গীকার করেছেন, অপরদিকে ইরান যেকোনো ধরনের স্থল অভিযান মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে যুদ্ধের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে