ইউএই (সংযুক্ত আরব আমিরাত), কাতার এবং কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের ৯টি দেশের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার জন্য ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিডিসিএ (DGCA)। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও যুদ্ধের পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ডিডিসিএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বর্তমানে তাদের প্রধান লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আকাশসীমায় যুদ্ধের কারণে যে কোনো সময় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তাই বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশিকার ফলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ভারত থেকে ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোতে যাওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের এই আকাশপথগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখন বিকল্প পথ ব্যবহারের কারণে বিমানের যাত্রার সময় যেমন বাড়বে, তেমনি জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির ফলে টিকিটের দামও অনেকটা বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো এবং ভিস্তারার মতো বড় বিমান সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই তাদের রুট পুনর্নির্ধারণের কাজ শুরু করেছে। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের যাত্রা কয়েক ঘণ্টা পিছিয়ে যেতে পারে বলে বিমান সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কেবল আকাশপথেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর প্রভাব পড়ছে সারা বিশ্বের পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বা কাতারের দোহার মতো ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলো দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার ভারতীয় যাত্রী যাতায়াত করেন। ডিডিসিএ-র এই নতুন নির্দেশনার ফলে কানেক্টিং ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হলে এই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হবে। আপাতত সাধারণ যাত্রীদের যেকোনো আন্তর্জাতিক সফরের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ফ্লাইটের বর্তমান অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে আকাশপথে যে ধরনের হামলা বা পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে, তাতে বেসামরিক বিমানগুলোর জন্য ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ইতিপূর্বে বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক বিমান ভূপাতিত করার নজির রয়েছে, যা থেকে শিক্ষা নিয়েই ভারত সরকার এই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যদিও এতে বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, তবুও প্রাণের ঝুঁকি এড়াতে এর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। আগামী কয়েক দিন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে ডিডিসিএ।
