জওয়ানদের জন্য জরাজীর্ণ কামরা! সমালোচনার মুখে রেল, বরখাস্ত ৪ কর্মী

পহেলগাঁও হামলার পর অমরনাথ যাত্রা ঘিরে বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্র। সেই অনুযায়ী দেশের উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলি থেকে প্রায় ১২০০ বিএসএফ জওয়ানকে কাশ্মীর পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু সেই ট্রান্সপোর্টেশনের ব্যবস্থাপনা ঘিরেই এবার সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারতীয় রেল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ছবি ও ভিডিওতে ধরা পড়েছে জওয়ানদের জন্য বরাদ্দ ট্রেনের ন্যক্কারজনক অবস্থা। দেখা যাচ্ছে – ছেঁড়া সিট, ঝুলে থাকা দরজা, ছাদে গর্ত, নোংরা পরিবেশ, শৌচালয়ের শোচনীয় দশা ও তেলাপোকার আনাগোনা। এমনকি ট্রেন ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় লেট করে উদয়পুরে পৌঁছায়। এর ফলে জওয়ানদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রেলমন্ত্রক দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। আলিপুরদুয়ারের কোচিং ডিপোর এক অফিসার ও ডিভিশনের তিনজন সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ারকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

রেলওয়ের তরফে দাবি করা হয়েছে, ভিডিওতে দেখা কোচগুলি মূলত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংযুক্ত ছিল, যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য নয়। অন্যদিকে দাবি, এই কোচগুলো যে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত, তা স্পষ্ট। কম্যান্ড্যান্ট স্তরের আধিকারিকের জন্য এমন কোচ বরাদ্দ ছিল কীভাবে, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী ১২ জুনের মধ্যে সমস্ত জওয়ানদের কাশ্মীরে মোতায়েন করার নির্দেশ ছিল। সেই অনুযায়ী ত্রিপুরা, অসম, মিজোরাম ও গৌহাটি থেকে ১৩ কোম্পানি (প্রায় ১৩০০ জওয়ান) পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

এ ঘটনা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি স্পষ্ট জানান, “নিরাপত্তা বাহিনীর মর্যাদা ও সম্মান আমাদের সর্বাগ্রে। এমন গাফিলতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”

প্রসঙ্গত, অমরনাথ যাত্রা শুরু হচ্ছে আগামী ৩ জুলাই, শেষ হবে ৯ আগস্ট। পবিত্র অমরনাথ গুহায় পৌঁছানোর দুটি পথ — পহেলগাঁও (৪৮ কিমি) ও বালতাল (১৪ কিমি) পথে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী যাত্রা করবেন। তাঁদের নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকবে এই সব জওয়ানরা।

এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে রেল ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে বলে সূত্রের খবর।