উত্তরবঙ্গে প্রথমবার ১০০ কেজি সোনার সাজে সেজে উঠতে চলেছেন মা দুর্গা। তবে এই ১০০ কেজি সোনার সাজ শুধু দুর্গা প্রতিমার জন্য নয়। একই ১০০ কেজি সোনার মধ্যেই দুর্গা, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতী—পাঁচ দেবদেবীকে সাজানো হবে। সোমবার শিলিগুড়ি জার্নালিস্ট ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করে ৬৪তম বর্ষের এই বিশেষ আয়োজনের কথা জানালেন সেন্ট্রাল কলোনি দুর্গাপুজো কমিটির কর্তৃপক্ষরা। প্রতি বছরই দুর্গাপুজোয় নতুন কিছু চমক নিয়ে আসে সেন্ট্রাল কলোনি। এবার সেই আয়োজন আরও বড় আকারে। সেনকো গোল্ডের সহযোগিতায় তৈরি হচ্ছে মোট ১০০ কেজি সোনার বিশেষ সাজ, যার মধ্যেই সেজে উঠবেন দুর্গা-সহ কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতী। পাশাপাশি বালুরঘাটের বিখ্যাত শিল্পীর হাতে তৈরি হচ্ছে পুজোর মণ্ডপ। চন্দননগরের শিল্পীদের তৈরি চোখধাঁধানো আলোকসজ্জাও এবারের পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে।
তবে এবছর পুজোর স্থান পরিবর্তন হয়েছে। এতদিন যে জায়গায় সেন্ট্রাল কলোনির পুজো হয়ে আসছিল, সেখানে রেলের তরফে ক্রিকেট মাঠ তৈরির কাজ হচ্ছে। সেই কারণে আগের পুজোর স্থান থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে নিউ জলপাইগুড়ি থানার এবং নিউ জলপাইগুড়ি রেলের অফিসের পার্শ্ববর্তী একটি মাঠে এবছর পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। স্থান বদলালেও আয়োজন ও চমকের ক্ষেত্রে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না পুজো কমিটি। ১০০ কেজি সোনার সাজে সজ্জিত প্রতিমা দেখতে দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই নিরাপত্তাতেও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। মণ্ডপের প্রায় ৮ ফুট আগে থেকেই ব্যারিকেড করা হবে। গোটা চত্বর সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে থাকবে। একাধিক নিরাপত্তারক্ষী ও বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও থাকবে। মণ্ডপের পিছনেও পৃথক ব্যারিকেড করা হবে। দর্শনার্থীদের নির্দিষ্ট লাইন দিয়ে প্রতিমা দর্শন করতে হবে।
ইতিমধ্যেই এই বিশেষ পুজোকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়ক-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অনেকের কাছ থেকেই ইতিবাচক সাড়াও মিলেছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তবে কে এবারের পুজোর উদ্বোধন করবেন, তা এখনই প্রকাশ্যে আনতে চাইছে না ক্লাব কর্তৃপক্ষ। পুজোর প্রায় এক সপ্তাহ আগে উদ্বোধকের নাম ঘোষণা করা হবে। তৃতীয়ার দিন সন্ধ্যা ৬টায় হবে পুজোর উদ্বোধন। মোট ১০০ কেজি সোনার এই নজিরবিহীন সাজকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গজুড়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। পুজোর সময় শহরে আসা পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয় দর্শনার্থীদের বড় অংশই এই পুজো দেখতে ভিড় করবেন বলে আশা উদ্যোক্তাদের। সোনার সাজে দেবী ও তাঁর চার সন্তান, বালুরঘাটের মণ্ডপ, চন্দননগরের আলোকসজ্জা এবং কড়া নিরাপত্তা—সব মিলিয়ে ৬৪তম বর্ষে সেন্ট্রাল কলোনির দুর্গাপুজো এবার উত্তরবঙ্গের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠতে চলেছে।
