পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলচুক্তি বাতিলের পর এবার বাংলাদেশের সঙ্গেও জলবণ্টন চুক্তিতে বড়সড় রদবদলের পথে হাঁটতে পারে ভারত। আগামী বছর, অর্থাৎ ২০২৬ সালে শেষ হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ। সেই চুক্তিকে সামনে রেখেই দিল্লি ভাবতে শুরু করেছে একাধিক বিকল্প বা নতুন চুক্তির রূপরেখা। রাজনৈতিক মহলে এই বিষয়টি ইতিমধ্যেই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক চুক্তি:
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার প্রথম প্রধানমন্ত্রীত্বের সময় ১৯৯৬ সালে দুই দেশের মধ্যে গঙ্গা জলবণ্টন নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই অনুযায়ী, প্রতি বছর শুষ্ক মরসুমে (১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত) ফারাক্কা বাঁধে জলের নির্দিষ্ট প্রবাহ নিশ্চিত করার কথা ছিল। ওই চুক্তির মাধ্যমে গঙ্গার জল ভাগ করে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল, যা উজানের দেশ ভারত এবং ভাটির দেশ বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব মেটাতে সহায়ক হয়।
ফারাক্কা বাঁধের ভূমিকায় ফের আলোচনার কেন্দ্রে: ভারতের তৈরি ফারাক্কা বাঁধ, যা বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ১০ কিমি দূরে ভাগীরথী নদীতে অবস্থিত, কলকাতা বন্দরের নৌচলাচল রক্ষার জন্য নির্মাণ করা হয়। এই বাঁধের মাধ্যমেই গঙ্গার জল হুগলি নদীতে নিয়ে যাওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত উভয় দেশ ১০ দিন অন্তর ৩৫ হাজার কিউসেক জল পায়।
নতুন চুক্তির প্রস্তাব কেন?
সূত্রের খবর, বর্তমানে ভারতের কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সেচের পরিকাঠামো আগের তুলনায় অনেকটাই বিস্তৃত হয়েছে। ফলে শুষ্ক মরসুমে আগের তুলনায় বেশি জল প্রয়োজন হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার উভয়েই মনে করছে, বিদ্যমান গঙ্গা চুক্তি সেই জলের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। তাই আগামী চুক্তিতে জলবণ্টনের নিয়মাবলীতে পরিবর্তন আনতে চাইছে ভারত। এমনকি ৩০-৩৫ হাজার কিউসেক অতিরিক্ত জল দাবি করার পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
সিন্ধু চুক্তি বাতিলের পর ভারতের এই পদক্ষেপ জলকূটনীতির ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশ কতটা সহযোগিতার মনোভাব দেখায় ও দুই প্রতিবেশী দেশ পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য একটি টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ জলচুক্তি গঠন করতে পারে কিনা।
