আত্মবিশ্বাস আর কঠোর পরিশ্রমের প্রতীক আতর আলী, এবার পা রাখতে চলেছেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে

দারিদ্র্য, পরিবারহীনতা, প্রতিবন্ধকতা—সব কিছুকে হার মানিয়ে নিজের চেষ্টায় আজ দেশের গর্ব হয়ে উঠেছেন নদিয়ার শ্রীনতপুরের উদীয়মান দৌড়বিদ আতর আলী। শৈশব থেকেই সংগ্রামের জীবন। ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারিয়ে বড় বোনের আশ্রয়ে বড় হওয়া আতরের জীবন যেন এক জীবন্ত অনুপ্রেরণার গল্প।

প্রথম শ্রেণিতে এক ছোট্ট লেবু দৌড় প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান পাওয়াই ছিল তার জীবনের প্রথম পদক্ষেপ। সেই পুরস্কারস্বরূপ পাওয়া ছোট্ট একটি পাত্র আজও আগলে রেখেছেন তিনি। আতরের কথায়, “সেই দিনটা আমাকে শিখিয়েছিল—আমিও পারি। ছোট হলেও, স্বপ্ন বড় হতে পারে।”

সেই থেকে থেমে থাকেননি আতর আলী। দারিদ্র্যতার মাঝে থেকেও প্রতিদিন সকালে সূর্যের রোদে ভিজে দৌড় শুরু করে। একে একে মহকুমা, জেলা, রাজ্য, জাতীয় থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে তুলে ধরেছে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। শুধু অংশগ্রহণ নয়— জয় করে এনেছেন রৌপ্য, ব্রোঞ্জ সহ একাধিক পদক।

এই বছর প্রথমবারের মতো আতর আলী বিদেশের মাটিতে পা রাখতে চলেছে, লক্ষ্য— নেপালের আন্তর্জাতিক দৌড় প্রতিযোগিতা, যা ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ২২টি দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে ২০০ ও ৪০০ মিটার রেসে অংশ নেবেন তিনি। আতর আত্মবিশ্বাসী ভাবে বলেন, “আমি দেশের জন্য পদক নিয়ে ফিরব। এটাই আমার প্রতিজ্ঞা।”

রাজ্য সরকারের তরফে ‘খেলোশ্রী’ পুরস্কার, ‘খেলা সম্মান’, ও ‘রাজ্যপাল পুরস্কার ইতিমধ্যেই পেয়েছেন তিনি। তবে তার অপেক্ষা এখন আরও বড়—একটি সরকারি চাকরি, যা মুখ্যমন্ত্রী ঘোষিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, জাতীয় পুরস্কারজয়ীদের জন্য বরাদ্দ। ইতিমধ্যেই সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়েছে আতর।

তবে আতরের জীবনের আসল প্রেরণা ও শক্তির উৎস তার বড় বোন। আতর বলেন, “আমার বোনই আমার মা, বাবা ও বন্ধু। আমি আজ যা হয়েছি, সব তার জন্যই।”

আতর আলী বর্তমান সমাজের অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা সন্তানদের অন্তত এক ঘণ্টার জন্য খেলাধুলার জন্য মাঠে পাঠান। ওদের জীবন বদলে যাবে। খেলা শুধু শরীর নয়, মন ও ভবিষ্যত তৈরি করে।”

এই অদম্য যোদ্ধার পথচলা যেন থেমে না যায়। তার আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রম নতুন প্রজন্মের জন্য এক অমূল্য অনুপ্রেরণা।