এসআইআর (SIR) ফর্ম বিলি, সংগ্রহ ও অনলাইন আপলোডের অতিরিক্ত চাপে অসুস্থ হয়ে পড়লেন কোন্নগরের এক বিএলও (BLO)। হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান বছর ষাটের তপতি বিশ্বাস। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, তিনি সেরিব্রাল স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে কোন্নগর পুরসভার মাতৃ সদনে চিকিৎসাধীন তপতির শরীরের বামদিক এখনো অবশ।
কোন্নগর নবগ্রামের বাসিন্দা তপতি বিশ্বাস অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। তিনি উত্তরপাড়া বিধানসভার ২৭৯ নম্বর বুথ, কোন্নগর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিএলও-র দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তপতির স্বামী প্রবীর বিশ্বাস জানান, ফর্ম বিলি, ফেরত নেওয়া, কিউআর কোড স্ক্যান করে অনলাইনে আপলোড— সব মিলিয়ে ওকে নাজেহাল করে দিচ্ছিল। সারারাত ঘুম হচ্ছিল না। ঘন ঘন ফোন আসত কাজ জমা দেওয়ার জন্য। বলেছিলাম এমন অবস্থায় বিএলও না করতে, কিন্তু বলল না করলে নাকি চাকরি থাকবে না।”
ওই বুথে ১০১৬টি এনুমারেশন ফর্ম বিলি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫টি এখনও সংগ্রহ করা বাকি।
প্রবীর বাবু আরো জানান, পরিবারের আয় সামান্য। তিনি জুটমিলের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক, মেয়ে স্বল্প বেতনের চাকরিজীবী। তাই তপতির চাকরিই ছিল পরিবারের প্রধান ভরসা।
তপতির দেওর বাবুলাল বিশ্বাস জানান, নেটের এত সমস্যা, ফর্ম স্ক্যান হচ্ছে না। না হলেই দিদি ভয় পেয়ে টেনশনে পড়ে যেত। সম্পূর্ণ মানসিক চাপ থেকেই এই স্ট্রোক।
কোন্নগর মাতৃ সদন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সঞ্জয় শী জানান, তপতি বিশ্বাস হাই সুগার ও হাই ব্লাড প্রেসারের রোগী। নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের অভাবে চাপ বেড়ে গিয়ে সেরিব্রাল স্ট্রোক হয়েছে। তবে এখনো তাঁর জ্ঞান রয়েছে। সিটি স্ক্যানে স্ট্রোক ধরা পড়েছে। আপাতত তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
