শিলিগুড়ি পুরনিগমে শাসক দলের ভেতরেই অস্বস্তি বাড়াচ্ছে ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দিলীপ বর্মন। দীর্ঘদিন ধরেই দলের সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ, একের পর এক একপাক্ষিক মন্তব্য ও প্রশাসনিক কাজে বাধা—সব মিলিয়ে তিনি এখন কার্যত দলেই ‘অপ্রিয় মুখ’।
দলের ভেতরের অসন্তোষ মঙ্গলবার অগ্ন্যুৎপাতের মতো প্রকাশ পেল, যখন ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে গিয়ে পৌরকর্মীরা বাধার মুখে পড়েন। অভিযোগ, দিলীপ বর্মন শুধু বাধা দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং সাংবাদিকদের সামনে দল ও পুর প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানান।
এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে বহুবার একই অভিযোগ উঠেছে— দলের বৈঠকে অশালীন মন্তব্য, মেয়র ও ডেপুটি মেয়রকে নিশানা করে বারবার কটুক্তি, পৌরকর্মীদের কাজে বাধা সহ পুর প্রশাসনকে ‘টার্গেট’ করে খোলা আক্রমণ।
এই সবকিছুর জেরে দলের ভেতরে ক্ষোভের আগুন ধিকিধিকি জ্বলছিল। মঙ্গলবারের ঘটনার পর সেই আগুন প্রকাশ্যে রূপ নিল।
বুধবার শিলিগুড়ি পৌর নিগমের সভা কক্ষে এক বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল কাউন্সিলর একজোট হয়ে দিলীপ বর্মনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
তাদের বক্তব্য, একজন কাউন্সিলরের আচরণে গোটা দল ও শাসনব্যবস্থা অসম্মানিত হচ্ছে।
১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্জয় শর্মার কটাক্ষ— আর সহ্য হচ্ছে না। উনি যা খুশি বলে যাচ্ছেন, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। রাজ্য নেতৃত্বকে এখনই হস্তক্ষেপ করতে হবে।”
৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রঞ্জনশীল শর্মার বক্তব্য আরও কড়া— মেয়র গৌতম দেবের ওপর দুর্নীতির অভিযোগ তোলা মানে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ভাঙা। যদি সত্যিই প্রমাণ থাকে, দেখান। না হলে এই নাটক বন্ধ করুন।
দলীয় সূত্রের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই দিলীপ বর্মনের আচরণে ক্ষুব্ধ শাসকদল। তাঁর মন্তব্যে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শীর্ষ নেতৃত্বও বিষয়টি গভীরভাবে নজর দিচ্ছে।
