এআই, সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে জোর, উত্তরবঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা

উত্তরবঙ্গে নতুন শিল্প, নতুন বিনিয়োগ এবং নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়েই বেঙ্গল চেম্বারস অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। উত্তরবঙ্গের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, একসময় উত্তরবঙ্গকে শুধুমাত্র ‘চিকেনস নেক’ হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন—দুই ক্ষেত্রেই উত্তরবঙ্গের গুরুত্ব বেড়েছে। ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য এখানে এখন শান্তিপূর্ণ ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি চা শিল্পের বর্তমান সংকটের কথাও তুলে ধরেন। একের পর এক চা বাগান বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং শ্রমিকদের আর্থিক দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে। খুব শীঘ্রই কলকাতা, শিলিগুড়ি বা দার্জিলিংয়ে চা শিল্পের সমস্ত অংশীদারদের নিয়ে বৈঠক করে শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার রূপরেখা তৈরি করা হবে।

শুধু ঐতিহ্যবাহী শিল্প নয়, ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পেও জোর দিচ্ছে রাজ্য। এআই, সেমিকন্ডাক্টর, আধুনিক শিক্ষা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী।

অন্যদিকে, পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গকে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরতে ‘দার্জিলিং’ এবং ‘সুন্দরবন’-কে গ্লোবাল ডেস্টিনেশন হিসেবে প্রচার করা হবে। পাশাপাশি বিশ্বদরবারে দুর্গাপূজার ব্র্যান্ডিং আরও জোরদার করা হবে।

তিনি জানান, খুব শীঘ্রই চালু হচ্ছে একটি সমন্বিত পর্যটন অ্যাপ। সেখানে সরকারের নথিভুক্ত হোটেল, নিধি পোর্টালে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান, ট্যুর অপারেটর, ট্যাক্সি পরিষেবা, বুকিং এজেন্সি-সহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সমস্ত পরিষেবাকে এক প্ল্যাটফর্মে আনা হবে। এই অ্যাপকে কেন্দ্র করে বড়সড় প্রচার অভিযানও চালানো হবে।

বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল উত্তরবঙ্গে নতুন শিল্প স্থাপন। উৎপাদন শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, চা-ভিত্তিক শিল্প, টেক্সটাইল এবং এমএসএমই খাতের সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পাশাপাশি উন্নত সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগ, শিল্পপার্ক, লজিস্টিক হাব এবং আধুনিক গুদামজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়নের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।