হরমুজ প্রণালীতে ইরানের মাইন স্থাপন: ‘নজিরবিহীন পরিণতির’ হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালীতে নৌ-মাইন স্থাপন শুরু করেছে। এই খবরটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ইরানকে সতর্ক করেছেন। তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে লিখেছেন যে, যদি ইরান এই প্রণালীতে কোনো মাইন স্থাপন করে থাকে এবং সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে না নেওয়া হয়, তবে দেশটিকে এমন এক ‘নজিরবিহীন সামরিক পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে যা আগে কখনো দেখা যায়নি। ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তেলের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দমন করবে এবং প্রয়োজনে হামলা আরও ২০ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই কড়া হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো যখন গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম সংঘাত চলছে।

এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী এরই মধ্যে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা হরমুজ প্রণালীর কাছে অভিযান চালিয়ে ইরানের ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করেছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরান ছোট ছোট নৌযানের মাধ্যমে এই মাইনগুলো স্থাপন করার পরিকল্পনা করছিল যাতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোর চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। উল্লেখ্য যে, প্রতিদিন বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) এর আগে হুমকি দিয়েছিল যে, পশ্চিমা হামলা অব্যাহত থাকলে তারা এই প্রণালী দিয়ে ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি হতে দেবে না। ট্রাম্পের এই হুমকির ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একটি বড় মাপের যুদ্ধের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নৌ-এসকর্ট দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।