‘ ভারতীয়রা ভালো অভিনেতা’: কেন ভারত ও ইরান সম্পর্কের বিষয়ে নমনীয় অবস্থান নিল যুক্তরাষ্ট্র

সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারত ও ইরানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং চাবাহার বন্দর নিয়ে ভারতের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভারত ও ইরান যখন চাবাহার বন্দর পরিচালনার জন্য ১০ বছরের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তখন ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক কিছু কঠোর বার্তার পর এক ধরণের কৌশলগত নীরবতা বা নমনীয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের অন্যতম প্রধান কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে, যার ফলে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় কিংবা ইরানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভারতকে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। মূলত চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় ভারতকে পাশে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই প্রকাশ্যে নিষেধাজ্ঞা বা কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও পর্দার আড়ালে ওয়াশিংটন ভারতের বিশেষ ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে মেনে নিয়েছে। কিছু বিশ্লেষক কৌতুকপূর্ণভাবে মন্তব্য করেছেন যে, ভারতীয়রা বিশ্বমঞ্চে ‘চমৎকার অভিনেতা’ হিসেবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা এবং মিত্রদের সাথে ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত রেখেছে। চাবাহার বন্দর ভারতের জন্য কেবল একটি বাণিজ্যিক প্রকল্প নয়, বরং এটি আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ায় সরাসরি প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর যা পাকিস্তানকে এড়িয়ে ভারতের সংযোগ স্থাপন সহজ করে। ভারত দক্ষতার সাথে যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে, এই বন্দরটি কেবল ভারতের একক স্বার্থে নয়, বরং এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং বিকল্প বাণিজ্যিক পথ তৈরির জন্য জরুরি। বর্তমানে এই চুক্তির ফলে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়ার কথা থাকলেও ভারতের ক্ষেত্রে এক ধরণের বিশেষ ছাড়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা ভারতের শক্তিশালী কূটনীতিরই জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।