কোন্নগরের জনপ্রিয় তৃণমূল নেতা দেবব্রত রায় ওরফে দেবু খুনের ঘটনায় নতুন মোড়। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ড কোনো রাজনৈতিক কারণে নয়, বরং জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই সংঘটিত হয়েছে। এই খুনের জন্য ৩ লক্ষ টাকার সুপারি দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্র থেকে জানা গেছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এবং আরও কয়েকজন জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত সপ্তাহে, কোন্নগরে নিজের বাড়ির সামনে দেবব্রত রায়কে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় তিনি একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। প্রথমদিকে এটিকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখা হলেও, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অন্য তথ্য উঠে আসে।
পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায় যে, দেবব্রত রায়ের সাথে এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যক্তির জমি কেনাবেচা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ চলছিল। এই বিবাদ সম্প্রতি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এই সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং জানতে পারে যে, এই খুনের পেছনে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল।
পুলিশ এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এরা হলেন, মূল অভিযুক্তের সহযোগী হিসেবে কাজ করা দীপক সিং, প্রবীর মণ্ডল এবং রমেশ দাস। পুলিশ সূত্রে খবর, মূল অভিযুক্ত এখনো পলাতক। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জেরা করে পুলিশ জানতে পারে যে, দেবব্রত রায়কে হত্যার জন্য ৩ লক্ষ টাকার সুপারি দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তকারীদের মতে, কোন্নগরের একটি বৃহৎ জমির দখল নিয়ে দেবব্রত রায়ের সঙ্গে স্থানীয় এক প্রভাবশালী জমি ব্যবসায়ীর দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। দেবব্রত রায় ওই জমি দখল করতে বাধা দিচ্ছিলেন এবং আইনি পথে তা সমাধান করার চেষ্টা করছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ব্যবসায়ী তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
কোন্নগরের তৃণমূল নেতা দেবব্রত রায়ের হত্যাকাণ্ড কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং জমি কেনাবেচার মতো অবৈধ কারবার কীভাবে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে তার একটি উদাহরণ। পুলিশ এই ঘটনার পেছনে থাকা মূল চক্রটিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে এই ঘটনার সঠিক কারণ প্রকাশ্যে আনতে সক্ষম হবে বলে আশা করা যায়। এই ঘটনাটি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
