ভারতের বৃহত্তম ডিজিটাল ওয়ালেট ওয়ান মবিউইক সিস্টেমস লিমিটেড (NSE: MOBIKWIK / BSE: ৫৪৪৩০৫), ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত কোয়ার্টারের আর্থিক ফলাফল ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটি টানা চতুর্থবারের মতো মুনাফা অর্জন করল। এই কোয়ার্টারে তাদের কর-পরবর্তী লাভ হয়েছে ১১.৮ কোটি টাকা এবং EBITDA দাঁড়িয়েছে ২২.৭ কোটি টাকায়, যা তাদের ইতিহাসে যেকোনও কোয়ার্টারে সর্বোচ্চ। এই সময়ে মোট আয় হয়েছে ৩০২.৮ কোটি টাকা।
এছাড়াও, প্ল্যাটফর্মের মোট লেনদেনের পরিমাণ (GMV) বাৎসরিক হিসেবে ৩৫% বৃদ্ধি পেয়ে ৫৯,৬৭৭ কোটি টাকার নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি, ঋণ বিতরণের পরিমাণও ৩৪% বৃদ্ধি পেয়ে Q2 FY27-এ ১,০৮২.৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ব্যবসার এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল জিএমভি-র দ্রুত বৃদ্ধি এবং উন্নত অপারেটিং মার্জিনের, যা কোম্পানির ব্যবসার মজবুত ও সম্প্রসারণযোগ্য মডেলটিকেই তুলে ধরে।
ইঞ্জিনিয়ারিং, লেন্ডিং (ঋণদান), কাস্টোমার এক্সপেরিয়েন্স এবং রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে বর্তমানে ৯২% কোড এআই-এর মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে, ৯১% গ্রাহকেরা প্রশ্নের সমাধান করছে Help LLM, এবং ১০০% ফ্রড বা জালিয়াতি শনাক্তকরণ পরিচালিত হচ্ছে এআই-এর মাধ্যমে। এর হাত ধরেই ২০২৮ অর্থবর্ষের (FY28) মধ্যে কোম্পানিটি একটি সম্পূর্ণ এআই-ফার্স্ট প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার পথে এগোচ্ছে।
লাভজনক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত
Q2 FY27-এ মবিউইকের ধারাবাহিক মুনাফা অর্জনের আরও একটি কোয়ার্টার সম্পন্ন হয়েছে, যা এর মূল ব্যবসাগুলির বৃদ্ধি এবং উন্নত পরিচালন পারফরম্যান্স দ্বারা চালিত। অপারেশন থেকে আয় ৯% বাৎসরিক বৃদ্ধি পেয়ে ২৯৫.৭ কোটি টাকা হয়েছে, যেখানে EBITDA বৃদ্ধি পেয়ে Q2 FY26-এর ৬.৪ কোটি টাকার লোকসান থেকে ২২.৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। PAT এবং EBITDA উভয়ই তাদের সর্বকালের সর্বোচ্চ কোয়ার্টার লেভেলে পৌঁছেছে।
এই পারফরম্যান্স সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে মবিউইকের কো-ফাউন্ডার, এমডি ও সিইও বিপিন প্রীত সিং বলেন: “Q2 FY27 হলো আমাদের চতুর্থ টানা লাভজনক কোয়ার্টার, যা একটি টেকসই ব্যবসা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমাদের দ্রুত অগ্রগতির প্রতিফলন। আমরা ঋণ বিতরণে ১০০০ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছি এবং মার্চেন্ট পেমেন্টসে বছরভর ১৫০% রাজস্ব বৃদ্ধি অর্জন করেছি, যা আমাদের ব্যবসার ক্রমবর্ধমান পরিসরকেই তুলে ধরে। আমরা বিশ্বাস করি যে, আমরা যখন একটি এআই-ফার্স্ট কোম্পানিতে রূপান্তরিত হব, তখন আমাদের ব্যবসায়িক মডেলের অপারেটিং লেভারেজ আরও শক্তিশালী হবে। খরচ অপ্টিমাইজেশান এবং অপারেশনাল দক্ষতার ওপর আমাদের ধারাবাহিক ফোকাস আমাদের ব্যবসায়িক মডেলকে আরও সুদৃঢ় করছে এবং আমরা যখন আরও প্রসার লাভ করব, তখন এটি আমাদের মুনাফা বৃদ্ধিতে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।”
ব্যবসা জুড়ে এআই-চালিত উদ্ভাবনের প্রসার
মবিউইক ইঞ্জিনিয়ারিং, লেন্ডিং (ঋণদান), কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স (গ্রাহক পরিষেবা) এবং রিস্ক ম্যানেজমেন্ট-এর (ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা) ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার ক্রমাগত উন্নত করে চলেছে এবং ২০২৮ অর্থবর্ষের মধ্যে একটি সম্পূর্ণ ‘এআই-ফার্স্ট’ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে।
বর্তমানে কোম্পানির ৯২% কোড এআই-এর মাধ্যমে তৈরি হয় (যা আগের কোয়ার্টারে ৮০% ছিল), যার ফলে বাজারে নতুন পণ্য বা পরিষেবা আনতে ৫৫% কম সময় লাগছে। এর এআই-চালিত কালেকশন প্ল্যাটফর্ম প্রাথমিক বা বকেয়া আদায়ের ৫৫% সম্পন্ন করে থাকে এবং ভয়েস এআই-এর মাধ্যমে ৩০-৪০% বেশি সংযোগ হার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আদায়ের হার ৩৩% উন্নত করেছে। কাস্টোমার এক্সপেরিয়েন্স বা গ্রাহক পরিষেবার ক্ষেত্রে, ৯১% গ্রাহকের প্রশ্নের সমাধান করছে Help LLM এবং ১০০% গ্রাহক যোগাযোগের মান এআই দ্বারা অডিট করা হয়। রিস্ক ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে এআই আমাদের অপারেশনের মূল কেন্দ্রবিন্দু। আমাদের ১০০% PRD-এর ঝুঁকি মূল্যায়ন করে একটি এআই এজেন্ট, ১০০% ফ্রড বা জালিয়াতির প্যাটার্ন শনাক্তকরণও এআই-এর মাধ্যমেই পরিচালিত হয় এবং এআই-এর সাহায্যেই ৪০-৭০% জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগের সমাধান করা হয়। এই উদ্যোগগুলি একটি আরও দক্ষ অপারেশনাল মডেল গড়ে তোলার জন্য মূল কার্যধারায় এআই-কে যুক্ত করার ক্ষেত্রে মবিউইকের ফোকাসকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
