রাজ্যের প্রবীণ নাগরিক এবং বিশেষ সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য বড়সড় সুখবর শোনাল নতুন সরকার। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর ক্ষমতায় এসেই জনকল্যাণমূলক একাধিক প্রকল্পের ওপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো বার্ধক্য ও প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি। নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দপ্তর সূত্রে খবর, এই দুই ক্ষেত্রেই ভাতার পরিমাণ মাসিক ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ২০০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে রাজ্যে বার্ধক্য ভাতার পরিমাণ নিয়ে যথেষ্ট বিভ্রান্তি ছিল। পূর্বতন সরকারের আমলে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের অধীনে মহিলারা আর্থিক সুবিধা পেতেন এবং ৬০ বছর পূর্ণ হলে তাঁরা বার্ধক্য ভাতার আওতায় আসতেন। তবে সেই ভাতার সঠিক পরিমাণ এবং প্রাপকদের তালিকা নিয়ে বিরোধী থাকাকালীন বিজেপি একাধিক প্রশ্ন তুলেছিল। এবার ক্ষমতায় এসে সেই সমস্ত বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা দূর করতে তৎপর হয়েছে বর্তমান সরকার।
রাজ্যের নবনিযুক্ত নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, তাঁর দপ্তর এই ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শুধুমাত্র প্রবীণরাই নন, এই বর্ধিত ভাতার সুবিধা পাবেন রাজ্যের প্রতিবন্ধী ভাই-বোনেরাও। সরকারের লক্ষ্য হলো সমাজের পিছিয়ে পড়া এবং নির্ভরশীল মানুষদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে ইতিমধ্যেই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ঘোষণা করেছে বিজেপি সরকার, যার অধীনে মহিলারা মাসিক ৩০০০ টাকা করে পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আগের কোনো জনহিতকর প্রকল্প বন্ধ করা হবে না, বরং সেগুলিকে আরও স্বচ্ছ ও উন্নত করা হবে। তবে তালিকায় থাকা মৃত বা অভারতীয়দের নাম বাদ দিতে কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া চালানো হবে। যদিও এই বর্ধিত ভাতা কবে থেকে সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছাবে, তার আনুষ্ঠানিক দিনক্ষণ খুব শীঘ্রই নবান্নের তরফে ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
