কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারে ভারতে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। লিঙ্কডইন-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ভারতীয় পেশাদারদের প্রোফাইলে ‘ফাউন্ডার’ বা প্রতিষ্ঠাতা শব্দ যোগ করার হার ১০৪% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ববাজারে সর্বোচ্চ। এআই এবং ডিজিটাল টুলস ব্যবসা শুরু করার চিরাচরিত বাধা (যেমন: খরচ ও কারিগরি দক্ষতা) কমিয়ে আনায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রবল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রতি ৪ জন জেন-জি উদ্যোক্তার মধ্যে ৩ জনই (৭৫%) ‘পোর্টফোলিও কেরিয়ার’ বা উপার্জনের একাধিক উৎসের ওপর নির্ভর করছেন। ৮০% প্রতিষ্ঠাতা মনে করেন, পারিবারিক বা শিক্ষাগত পটভূমি যা-ই হোক না কেন, বর্তমান যুগে উদ্যোক্তা হওয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ। সাফল্যের সংজ্ঞাও বদলে যাচ্ছে। ভারতের ৬৪% জেন-জি উদ্যোক্তার কাছে সাফল্য মানে কাজের ফ্লেক্সিবিলিটি এবং ৫৬% মনে করেন ব্যক্তিগত উন্নতিই আসল সাফল্য। এছাড়া, ৮০% উদ্যোক্তা তাদের ব্যবসার প্রসারে শক্তিশালী পেশাদার নেটওয়ার্কের গুরুত্ব স্বীকার করেছেন।
লিঙ্কডইন ইন্ডিয়া-র কান্ট্রি ম্যানেজার কুমারেশ পট্টাভিরামন বলেন, “এআই নতুন প্রজন্মের প্রতিষ্ঠাতাদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ দিচ্ছে। আমরা একটি ‘পোর্টফোলিও যুগে’ প্রবেশ করছি যেখানে পেশাজীবীরা প্রথাগত কেরিয়ারের বাইরে গিয়ে উপার্জনের নতুন পথ তৈরি করছেন।”
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তায় লিঙ্কডইন ‘প্রিমিয়াম অল-ইন-ওয়ান’ এবং এআই-চালিত ‘হায়ারিং প্রো’ টুলস নিয়ে এসেছে। এছাড়া, ২০২৬ সাল পর্যন্ত ‘লিঙ্কডইন লার্নিং’-এ ব্যবসায়িক প্রসার ও এআই বিষয়ক বিশেষ কোর্সগুলো বিনামূল্যে রাখা হয়েছে। এই সমীক্ষাটি ‘সেনসাসওয়াইড’ কর্তৃক ২০২৬ সালের এপ্রিলে ভারতের ৫০০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তার ওপর পরিচালিত হয়েছে।
