বাংলার ঐতিহাসিক পালাবদলের পর এবার তার প্রভাব আছড়ে পড়ল রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক ভবন নবান্নে। সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দেখা গিয়েছে রাজ্যে বিজেপি এককভাবে ২০০-র বেশি আসনে জয়লাভ করেছে। আর এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরদিন, মঙ্গলবার নবান্নের অন্দরে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন সকলে। সরকারি কর্মীদের একাংশের মুখে শোনা গেল ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘ভারতমাতা কি জয়’ স্লোগান।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই নবান্নের করিডোরগুলোতে উৎসবের মেজাজ লক্ষ্য করা যায়। হাতে বিজেপির পতাকা আর গেরুয়া আবির নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েন মহিলা ও পুরুষ কর্মীদের একাংশ। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর নবান্নের অলিন্দে শাসকদলের বিরোধী শিবিরের স্লোগান শোনা গেল। আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি এদিন বহু কর্মীর গলায় ফুটে উঠেছে বিগত দিনগুলোর ক্ষোভ আর বঞ্চনার কথা।
আবির খেলায় মত্ত এক সরকারি কর্মী জানান, “এতদিন আমরা একপ্রকার ভয়ের মধ্যে কাজ করতাম। স্বাধীনভাবে নিজেদের দাবিদাওয়া জানাতে পারতাম না। আজ সেই ভয়ের পরিবেশ থেকে মুক্তি পেলাম।” কর্মীদের কথায় বারেবারে উঠে এসেছে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-র প্রসঙ্গ। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসায় এবার তাঁদের ন্যায্য পাওনা ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটবে।
উল্লেখ্য, সোমবার ফল স্পষ্ট হতেই নবান্নের বাইরে উল্লাস শুরু করেছিলেন বিজেপি সমর্থকরা। কিন্তু মঙ্গলবার সেই জোয়ার ঢুকে পড়ল প্রশাসনের অন্দরেও। রাজ্যে বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূলের অনেক শক্ত ঘাঁটি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্র গেরুয়া ঝড়ের যে প্রভাব পড়েছে, নবান্নের আজকের ছবিটা তারই চূড়ান্ত প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
