পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে গ্রামীন স্তরে সংগঠন ঢেলে সাজাতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই পরিকল্পনার লক্ষ্যে রাজ্য জুড়েই জেলা , ব্লক ,অঞ্চল সহ বুথ স্তরে ব্যাপক রদ বদল করা হবে শাসক দলের অভন্তরীন সংগঠনে । ২১ শে জুলায়ের পরেই সম্ভবত ঘোষণা হতে পারে নতুন তালিকা । তার আগে রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব স্থানীয় বিধায়ক ও জেলা সভাপতিদের সাথে একাধিক বার বৈঠক করছেন । দলে শীর্ষ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুথের নেতা কর্মীদের সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন বিভিন্ন মাধ্যমে । দিনহাটা -১ ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি (Block President) কে হবেন তা নিয়ে দলীয় কর্মীদের মধ্যে জোর গুঞ্জন চলছে । বিধায়ক জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনীয়া ঘনিষ্ঠ নাকি জেলা সভাপতি পার্থ প্রতিম রায়ের কাছের লোক ব্লকের দায়িত্বে আসবেন তা নিয়ে কানাঘুষো চলছে জোর কদমে । সুত্রের খবর দিনহাটা -১ ব্লক থেকে ৭ সদস্যের একটি তালিকা বিভিন্ন মারফত জমা পড়েছে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে । সেখান থেকেই বাছাই হবে নতুন ব্লক সভাপতি । তবে শেষ সিধান্ত নেবেন দলনেত্রী স্বয়ং । তাই কোনো নেতাই ব্লক সভাপতির নাম নিয়ে মুখ খুলতে না চাইলেও BNN Bangla ৭ জন সম্ভাব্য ব্লক সভাপতি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের সাথে কথা বলেছে।
ব্লক সভাপতির (Block President) দৌড়ে কারা?
সুত্রের খবর রাজবংশী ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই ব্লকে কোনো রাজবংশী বা সংখ্যালঘু মুখকেই ব্লক সভাপতি করতে পারে তৃণমূল । তবে রাজবংশী নেতা সভাপতি হলে কোনো সংখ্যালঘুনেতাকে চেয়ারম্যান করা হতে পারে । অথবা দলের সহ সভাপতির সংখ্যা বাড়িয়ে রাজবংশী, সংখ্যালঘু ওসাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে দল । এবারে বিধানসভায় দিনহাটা-১ ব্লকে ভালো ফল করছে তৃনমুল কংগ্রেস । তারপরেও যেভাবে বিধায়ক ও বিধায়ক বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে কোন্দল বাড়ছে সেই আঁচ যাতে পঞ্চায়েত নির্বাচনে না পড়ে সেজন্য তৃণমূল সচেষ্ট । দুই লবির মধ্যে ভারসাম্য রেখেই নতুন কমিটি করা হবে বলে সুত্রের খবর । ব্লক সভাপতি নিয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতারা সহমত না হলে কোনো মহিলাকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে ।

সঞ্জয়েই কি ফিরবে আবার দায়িত্বে ?
বর্তমানে ব্লক (Block President) সভাপতি দায়িত্বে সঞ্জয় বর্মন থাকলেও রাজ্য সভাপতির নির্দেশে তার সমস্ত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে । শৌলমারীতে অনাস্থা প্রস্তাব আনা বিক্ষুদ্ধ গোষ্ঠীকে মদত দেওয়ার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে । বর্তমানে সিতায়ের দলীয় বিধায়কের সাথে সঞ্জয় বাবুর সাপে নেউলে সম্পর্ক হলেও দলে জেলা সভাপতি পার্থ প্রতিম রায়ের সাথে সুসম্পর্ক রয়েছে তাঁর ।ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার পরে পার্থ বাবুর সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা গেছে সঞ্জয় বর্মনকে । বিধায়কের বিরোধীতা সত্ত্বেও এই রাজবংশী নেতাকে ফের দায়িত্ব দিলে বিধায়ক বিরোধী গোষ্ঠীর অনেকেই খুশি হবেন । গোষ্ঠী কোন্দলে জন্য ফের সঞ্জয় কে দায়িত্ব দেওয়া হবে কিনা সে নিয়ে ভাবনা চিন্তা চলছে দলের অন্দরে ।

আবুয়াল আজাদের সম্ভবনা কতটা
দিনহাটা-১ ব্লকে বিধায়ক বিরোধীদের প্রধান মুখ আবুয়াল আজাদ । গিতালদহ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সাবেক এই প্রধান একদা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতি মন্ত্রী নিশীথ প্রামানিক ঘনিষ্ঠ ছিলেন । তবে নিশীথ প্রামানিক তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে বিজেপিতে গেলে দিনহাটা-১ব্লকে নিশীথ প্রামানিকের অন্যান্য অনুগামীদের নিয়ে তৃণমূলে রয়ে যান তিনি । তবে বিধায়কের সাথে তাঁর সম্পর্কের টানা পোড়েন চলতেই থাকে । তাঁর জেরে প্রধানের পদ খোয়াতে হয় তাকে । জেলা সভাপতি পার্থ প্রতিমের লোক হিসেবে দিনহাটায় পরিচিত তিনি । সঞ্জয় বর্মনকে ব্লক সভাপতি না করা হলে আজাদ বাবুকেই সমর্থন দিবেন পার্থ প্রতিম রায় বলে আজাদ ঘনিষ্ঠরা দাবি করছে ।

বিধায়কের পছন্দের প্রার্থী আলম
প্রকাশ্যে সিতায়ের বিধায়ক জগদীশ বসুনিয়া কোনো মন্তব্য না করলেও সভাপতির (Block President)দৌড়ে কোচবিহার জেলাপরিষদের কর্মাধক্ষ্য নুর আলম হোসেনই তাঁর প্রথম পছন্দ বলে ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি জানিয়েছেন । নুর আলম একদা ব্লক সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন । তবে নারী ঘটিত বির্তকের কারনে দল এক বার আলম কে বহিস্কার করে । বিধানসভা ভোটের আগে বহিষ্কার তুলে নিলেও কোনো পদ দেয়নি তাকে । এবারের সিতায়ে তৃণমূল কংগ্রেসের জেতার পিছনে আলমের ভুমিকা অনেক খানি বলে আলম ঘনিষ্ঠরা দাবি করে । তবে মহিলা কান্ডে ভাবমুর্তি নষ্ট হওয়াতে আবার দলের দায়িত্ব পেতে কালঘাম ছোটাতে হচ্ছে তাকে। জেলার সভাপতির অপছন্দের ব্যক্তিও বটে ‘আলম’ ।

বিধায়কের তুরুপের তাস পুলক
দিনহাটা-১ ব্লকের পুলক চন্দ্র বর্মন বিধায়ককে ‘কাকা’ বলে সম্বোধন করেন । রাজবংশী এই নেতা দলের ব্লকে শাখা সংগঠনের দায়িত্বে রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে । বিধায়কের সাথে ঘনিষ্টতা রয়েছে ভালোই পুলক বাবুর । আলম ব্লক সভাপতি না হলে ‘ রাজবংশী পুলক’ কার্ড খেলবেন বিধায়ক বলে অনেকেই মনে করছেন । বিরোধী লবির নেতারা সেটা আন্দাজ করে পুলকের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নিতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এনেছেন

বিধায়কের নিকট আত্মীয় পঙ্কজ
জগদীশ বসুনীয়া ছোট বোনের স্বামী পঙ্কজ মহন্ত পেশায় শিক্ষক । দিনহাটা শহর সংলগ্ন বড় আটিয়াবাড়ি এলাকায় তিনি থাকেন । দীর্ঘদিন ধরে দলের সাথে জড়িত রয়েছেন তিনি । বর্তমানে দিনহাটা-১ ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য । বিধায়কের আত্মীয় হিসেবে ব্লক সভাপতির দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে । তবে স্বজন পোষণের অভিযোগ উঠতে পারে বলে এই সিদ্ধান্ত নিতে একটু ভাবনা চিন্তা করছেন বিধায়ক ।

মেন্টর সুবল কি ফের হাল ধরবে
দিনহাটা-১ ব্লকে দীর্ঘদিন সভাপতির দ্বায়িত্বে ছিলেন সুবল চন্দ্র রায় । পরে বিধায়কের সাথে বিবাদ বাড়ায় পদ যায় সুবল বাবুর । তারপরে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় ছিলেন তিনি । পরে কোচবিহার জেলা পরিষদের মেন্টর করা হয় দলের এই পুরোনো নেতাকে । এবারে ফের পঞ্চায়েত ভোটের আগে দিনহাটা-১ ব্লকে দলের স্টিয়ারিং দেওয়া হতে পারে জল্পনা চলছে । আপাতত বিধায়কের সাথে ভালোই সম্পর্ক রেখে চলছেন তিনি।

সংখ্যালঘু নেতা মোস্তফা খন্দকার
দিনহাটা-১ ব্লকে সংখ্যালঘু সংগঠনের দ্বায়িত্বে রয়েছে শিক্ষক নেতা মোস্তফা খন্দকার । বিধায়ক ও বিরোধী দুই শিবিড়ের সাথে সমান্তরালে সম্পর্ক রেখে চলছেন তিনি । সংখ্যালঘু সভাপতি হলে তাঁর ভাগ্যেও শিকে ছিড়তে পারে বলে অনেক শিক্ষক নেতাই মনে করছেন