জম্মু–কাশ্মীরের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে সোমবার সকালে পৌঁছালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রবিবার গভীর রাতে তিনি জম্মুতে অবতরণ করে সোমবার ভোর থেকেই শুরু করেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখা।
সকালে আকাশপথে পরিদর্শন চালান তিনি। বিশেষ বিমানে চেপে কাত্রা, কিশ্তওয়ার সহ একাধিক প্লাবিত এলাকা ঘুরে দেখেন অমিত শাহ। পাহাড়ি এলাকায় মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হঠাৎ নেমে আসা জলপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। ক্ষয়ক্ষতি কেমন হয়েছে সাথে উদ্ধারকার্য কতটা এগিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেন তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে।
এরপর তিনি পৌঁছন বিক্রম চৌক সেতুতে, যেখানে তাওই নদীর জলে ভেসে গিয়েছে বহু ঘরবাড়ি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো। সেতুর অবস্থা এবং নদীর দুই তীরবর্তী এলাকা ঘুরে দেখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন জম্মু–কাশ্মীর প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিনিধিরা।
দিনের শেষে অমিত শাহ রাজভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জম্মু–কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিংহ, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি, দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) ও রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। বৈঠকে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের পরিকল্পনা, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন, দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু–কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড ও পাঞ্জাবের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইন্টার–মিনিস্টেরিয়াল সেন্ট্রাল টিম (IMCT) গঠন করা হয়েছে। এই টিমগুলি শিগগিরই দুর্গত এলাকায় গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করবে ও কেন্দ্রকে রিপোর্ট জমা দেবে।
অমিত শাহের সফরে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে দুর্গতদের মধ্যে। স্থানীয়রা আশা করছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে দ্রুত ঘোষণা করা হবে বিশেষ আর্থিক সাহায্য ও পুনর্বাসন প্যাকেজ, যা এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর মানুষকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জম্মু–কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ এখন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায়।
