জীবন বিমা শিল্প নয়া বাণিজ্য প্রিমিয়ামে ১৫.৭ শতাংশের বৃদ্ধি-সহ ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ শেষ করল, মোট সংগ্রহ প্রায় ₹৪.৬ লক্ষ কোটি

জীবন বিমা শিল্প ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে  শক্তিশালী বৃদ্ধি অর্জন করল। মোট নতুন ব্যবসার প্রিমিয়াম ১৫.৭% বৃদ্ধি পেয়ে ₹৪,৫৯,৭১৩ কোটিতে পৌঁছেছে, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই পরিমাণ ছিল ₹৩,৯৭,৩৩৭ কোটি। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে, জীবন বিমা শিল্প নতুন ব্যবসার প্রিমিয়াম হিসেবে ₹৭৫,৮৭২ কোটি সংগ্রহ করেছে। ২০২৫ সালের মার্চের ₹৬১,৪৩৯ কোটির তুলনায় এই বৃদ্ধি রীতিমতো উল্লেখযোগ্য এবং তা ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত উভয় ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। এই সমৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ছিল গোষ্ঠী ব্যবসা বিভাগ- যা সামগ্রিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। গ্রুপ সিঙ্গেল প্রিমিয়াম বছরে ১৭.৫% বৃদ্ধি পেয়ে ₹২,৪৯,৭৬৬ কোটিতে পৌঁছেছে,  আর গ্রুপ ইয়ারলি রিনিউয়েবল প্রিমিয়াম ৩৯.০% বৃদ্ধির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। তুলনামূলকভাবে ছোট ভিত্তি থেকে হলেও গ্রুপ নন-সিঙ্গেল প্রিমিয়ামও শক্তিশালী বিকাশের ধারা দেখিয়েছে।

খুচরো অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতাকে হাতিয়ার করে ব্যক্তিগত বিভাগও থেকেছে স্থিতিশীল। ব্যক্তিগত নন-সিঙ্গেল প্রিমিয়াম ১০.১% বৃদ্ধি পেয়ে ₹১,২৬,৯০০ কোটিতে পৌঁছেছে, আর ব্যক্তিগত সিঙ্গেল প্রিমিয়াম ১২.৩% বৃদ্ধি পেয়ে ₹৫৭,৬৬৪ কোটিতে দাঁড়িয়েছে—যা দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও সুরক্ষা পণ্যের প্রতি স্থায়ী চাহিদার প্রতি ইঙ্গিত করে। পলিসি ইস্যুর ক্ষেত্রে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে  জীবন বিমা থেকে ২.৮৩ কোটিরও বেশি পলিসি জারি করা হয়েছে- যা আগের বছরের তুলনায় ৪.৭% বেশি। প্রিমিয়াম বৃদ্ধির হার পলিসির সংখ্যার তুলনায় বেশি হওয়া থেকে বোঝা যায় যে গড় প্রিমিয়ামের পরিমাণ বা টিকিট সাইজ বেড়েছে—যা উন্নত পণ্য মিশ্রণ এবং আর্থিক পরিকল্পনার মাধ্যম হিসেবে জীবন বিমার প্রতি গ্রাহকদের বাড়তি আস্থার প্রতিফলন।

ইনস্যুরেন্স অ্যাওয়ারনেস কমিটি (IAC-লাইফ)-এর চেয়ারপার্সন কমলেশ রাও বলেন, “২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে  জীবন বিমা শিল্পের এই শক্তিশালী পারফরম্যান্স ভারতীয় পরিবারগুলির মধ্যে আর্থিক সুরক্ষার প্রতি বাড়তি সচেতনতা এবং পরিকল্পিত আর্থিক নিরাপত্তার দিকে বাড়তে থাকা আগ্রহের প্রতিফলন। ১৫.৭% বৃদ্ধির হার খুবই উৎসাহজনক এবং এটি সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিস্তৃত বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং বিমা পণ্যে ধারাবাহিক উদ্ভাবনের সম্মিলিত প্রভাবকে তুলে ধরে। অবশ্য, যদিও গোষ্ঠীগত ব্যবসা বৃদ্ধির গতি বজায় রাখছে,  ব্যক্তিগত বিভাগে ধারাবাহিক সম্প্রসারণও বিশেষভাবে আশাব্যঞ্জক, কিন্তু জীবনকে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে বিমা করানোয় ঘাটতি আমাদের সামনে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর আশু প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ইনস্যুরেন্স অ্যাওয়ারনেস কমিটি হিসেবে আমাদের লক্ষ্য হল, ধারাবাহিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা, বোঝাপড়া উন্নত করা এবং গ্রাহকদের দ্রুত জীবন বিমা করানোয় উৎসাহিত করা- যাতে দেশজুড়ে আর্থিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হয়।