ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি, তার ছেলে মোর্তজা লারিজানি এবং ডেপুটি আলিরেজা বায়াতকে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হত্যার প্রতিবাদে বুধবার ভোরে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। ইরান এই হামলায় শক্তিশালী ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ বা গুচ্ছ বোমা সমৃদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা মাঝআকাশে শত শত ক্ষুদ্র বোমায় বিভক্ত হয়ে বিশাল এলাকা জুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, খোররামশাহর-৪ এবং কদর সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। জনবহুল তেল আবিব ও এর পার্শ্ববর্তী রামা গান ও বনেই ব্রাক এলাকায় এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আঘাত হানে, যার ফলে অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, ক্লাস্টার বোমাগুলো বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় সেগুলোকে প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন ছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর মৃত্যুর পর আলী লারিজানিকে দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী ও ‘কার্যত নেতা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। সোমবার রাতে তেহরানের কাছে লারিজানির মেয়ের বাসভবনে ইসরায়েলি হামলায় তার সপরিবারে নিহতের ঘটনাটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড়ে ঠেলে দিয়েছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনেই ইতিমধ্যেই কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং ইসরায়েলকে “চরম প্রতিশোধের” হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল সচল রাখতে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি রুখতে যুক্তরাষ্ট্র তার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অব্যাহত রাখবে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন এক ভয়াবহ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজার ও আন্তর্জাতিক তেলের দামের ওপর।
