মঙ্গলবার রাতে কলকাতা বিমানবন্দরে একটি অনভিপ্রেত দুর্ঘটনার জেরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিমানবন্দরের ৫১ নম্বর বে-তে দাঁড়িয়ে থাকা ইন্ডিগোর একটি বিমানে সজোরে ধাক্কা মারে একটি কেটারিং ভ্যান। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে বিমানটি যখন নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে ছিল, তখনই বিমানবন্দরের ক্যান্টিনের কাজে ব্যবহৃত একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি বিমানের ইঞ্জিনে গিয়ে ধাক্কা মারে। ঘটনায় বিমানের ইঞ্জিনের ক্ষতি হলেও সৌভাগ্যবশত কোনো যাত্রী বা বিমানকর্মী আহত হননি। বিমানের ভেতরে থাকা যাত্রীরা সকলেই নিরাপদ ও অক্ষত রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বিমানবন্দরের ক্যান্টিনের জন্য খাদ্যসামগ্রী বহনকারী কেটারিং-এর গাড়িটি বিমানবন্দরের ভেতরে চলাচলের সময় আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। বিমানটি তখন উড্ডয়নের প্রস্তুতির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল কি না বা অবতরণ করে বিশ্রামে ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে সজোরে হওয়া এই ধাক্কায় বিমানের ইঞ্জিনের বাইরের অংশে দৃশ্যত ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড স্টাফ এবং প্রযুক্তিবিদরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে বিমানটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং ইঞ্জিনের অভ্যন্তরীণ কোনো বড় ক্ষতি হয়েছে কি না, তা কারিগরি দল বিশদে পরীক্ষা করে দেখছে।
এই ঘটনার জেরে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় এই ধরনের যানবাহনের গতিবিধি এবং চালকের অসতর্কতা কীভাবে এত বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠল, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও যাত্রীরা নিরাপদ আছেন, তবুও রানওয়ের ভেতরে এমন ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় বিমানবন্দরের অন্যান্য পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, কলকাতা বিমানবন্দরে এই ধরনের দুর্ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিমানবন্দরের ভেতরে ঝালাইয়ের কাজ চলাকালীন একটি ফ্লেক্সে আগুন লেগে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় বিমানবন্দরের কর্মীদের তৎপরতায় ১৫ মিনিটের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। তবে রোববারের এই বিমান ও গাড়ির সংঘর্ষের ঘটনাটি বিমান চলাচলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের যান্ত্রিক বা মানবিক ত্রুটি এড়াতে বিমানবন্দরের ভেতর যানবাহনের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আরও কড়াকড়ি করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
