স্বাস্থ্য সচেতনতা ও উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে বোলপুরে মণিপাল হাসপাতালের, ‘অন্বেষণ’

ভারতের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য পরিষেবা নেটওয়ার্ক মণিপাল হাসপাতাল গ্রুপের অন্তর্গত মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ে আজ বোলপুরে তাদের ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ ‘অন্বেষণ’-র অধীনে একটি ইন্টার‌্যাক্টিভ মেডিক্যাল সচেতনতা সেশন আয়োজন করে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অঞ্চলের মানুষের মধ্যে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রতি তাদের অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়।এই সেশনে উপস্থিত ছিলেন ডা. তন্ময় কর্মকার, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – অর্থোপেডিক্স ও জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জন, ডা. রাজা নাগ, কনসালট্যান্ট – ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি ও ডা. অমল চৌধুরী, সেক্রেটারি, ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বোলপুর বিশ্বভারতী)-এর উপস্থিতিতে তাঁরা গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসা, প্রাথমিক রোগ শনাক্তকরণ এবং রোগীর সঠিক যত্নের গুরুত্ব সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেন।

ভারতজুড়ে মণিপাল হাসপাতালের বিস্তৃত উপস্থিতির ফলে এখন রোগীরা তাঁদের নিজ এলাকার কাছেই দেশের অন্যতম সর্বাঙ্গীণ চিকিৎসা পরিষেবার সুবিধা পাচ্ছেন। বর্তমানে মণিপাল হাসপাতালের ভারতজুড়ে ২৪টি শহরে মোট ৪৯টি হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে রয়েছে ১২,৬০০-এরও বেশি শয্যা, ১১,০০০-এরও বেশি চিকিৎসক এবং আশি লক্ষ বেশি মানুষের চিকিৎসা পরিষেবার অভিজ্ঞতা। কার্ডিওলজি ও অর্থোপেডিক্সের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের যৌথ উদ্যোগে রোগীরা এক জায়গাতেই সমন্বিত ও উন্নত চিকিৎসা বিষয়ে জানতে পারেন।

সংস্কৃত শব্দ “অন্বেষণ”, যার অর্থ ‘অনুসন্ধান ও আবিষ্কার’, এই উদ্যোগের মূল দর্শনকে প্রতিফলিত করে। এটি মণিপাল হাসপাতালের সমবায় শিক্ষালাভ, দায়িত্বশীল স্বাস্থ্য যোগাযোগ এবং কমিউনিটি সচেতনতার প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রতীক। পূর্বে তামলুক, কাঁথি, বর্ধমান, জামশেদপুর, আইজল, মালদা, দিনাজপুর ও দার্জিলিং-এ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এবার এই উদ্যোগ পৌঁছাল বোলপুরে। এখানে চিকিৎসকেরা বিভিন্ন শাখার চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলি সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেন এবং প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে সহায়তা করেন। এই ধরনের উদ্যোগ রোগীর চিকিৎসার ফলাফল উন্নত করার পাশাপাশি দূরবর্তী অঞ্চলে সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংস্থার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করে।

সেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. তন্ময় কর্মকার বলেন, “বর্তমানে অর্থোপেডিক সমস্যাগুলি আর শুধুমাত্র প্রবীণদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বসে থাকার প্রবণতা, ভুল ভঙ্গি এবং সচেতনতার অভাবের কারণে অল্প বয়সেই জয়েন্ট সংক্রান্ত সমস্যার সংখ্যা বাড়ছে। ‘অন্বেষণ’-র মাধ্যমে আমরা গণমাধ্যমকে এই সমস্যাগুলি আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করতে চাই, যাতে প্রতিরোধ, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং আধুনিক শল্যচিকিৎসা সম্পর্কে সঠিক বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়।”