দীর্ঘস্থায়ী লিভারের রোগে আক্রান্তদের নতুন আশা দেখাচ্ছে সিরোসিস নিরাময়

হায়দ্রাবাদের যশোদা হাসপাতালের কনসালট্যান্ট গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট, থেরাপিউটিক এন্ডোস্কোপিস্ট এবং এন্ডোসোনোলজিস্ট ডা. আদি রাকেশ কুমার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই বিশ্বাসই রয়েছে যে সিরোসিস—লিভারের টিস্যুতে ক্ষতর কারণে সৃষ্ট একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ। তবে, সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে দেখা গিয়েছে যে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে লিভার নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং এমনকি নিরাময়ও করতে পারে, যা এই গুরুতর রোগে আক্রান্তদের জন্য নতুন আশার নিয়ে আসছে।

সিরোসিস হলো লিভারের ক্রমবর্ধমান ক্ষতির চূড়ান্ত পর্যায়, যা প্রায়শই অটোইমিউন রোগ, ফ্যাটি লিভার ডিজিজ, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং হেপাটাইটিস বি বা সি-এর কারণে হয়ে থাকে। বারবার আঘাতের ফলে টিস্যুর ক্ষত তৈরি হয় যা লিভারের কার্যকারিতা ব্যাহত করে এবং জীবন-সংশয়ের মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে। বহু বছর ধরে, শেষ পর্যায়ের লিভার সিরোসিসের একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা হতো প্রতিস্থাপন পদ্ধতিকেই, কিন্তু এটি দাতার অভাব এবং আজীবন ইমিউনোসাপ্রেসিভ থেরাপির প্রয়োজনীয়তার মতো গুরুতর উদ্বেগ সঙ্গে নিয়ে আসে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে, অনুগ্রহ করে [০৮০৬৫৯০৬১১৪ / ০৮০৬৫৯০৬১৭৯] নম্বরে কল করুন অথবা https://www.yashodahospitals.com/ ওয়েবসাইটে অনলাইনে বুক করুন।

সাম্প্রতিক গবেষণা দেখিয়েছে যে দ্রুত এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে সিরোসিস নিরাময় করা সম্ভব। হেপাটোসাইট দ্বারা চালিত লিভারের অসাধারণ রিজেনারেশন ক্ষমতা, অন্তর্নিহিত কারণের সমাধান হয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুকে সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। নিরাময় নির্ভর করে লিভারের ক্ষতির পরিমাণ, সিরোসিসের কারণ এবং পোর্টাল হাইপারটেনশন বা লিভার ক্যান্সারের মতো একাধিক জটিলতার উপস্থিতির উপর। প্রাথমিক পর্যায়ে সিরোসিস নিরাময়ের সম্ভাবনা বেশি থাকায়, রোগটি দ্রুত শনাক্তকরণ করা এবং চিকিৎসা করা অত্যন্ত জরুরি।

ডা. আদি রাকেশ কুমার জানান, চিকিৎসার কৌশলগুলির মধ্যে রয়েছে ফ্যাটি লিভার রোগের জন্য জীবনযাত্রার পরিবর্তন—যেমন মদ্যপান ত্যাগ করা এবং ওজন কমানো; ভাইরাল হেপাটাইটিসের জন্য অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ; এবং লিভার ক্যান্সারের জন্য ট্রান্সআর্টেরিয়াল কেমোএম্বোলাইজেশন। ফাইব্রোস্ক্যানের মতো নন-ইনভেসিভ পদ্ধতি ফাইব্রোসিস দ্রুত শনাক্ত করতে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণে সহায়তা করে, যা বারবার বায়োপসি করার প্রয়োজনীয়তা কমায় এবং চিকিৎসার প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ উন্নত করে। যখন অন্যান্য চিকিৎসা ব্যর্থ হয় বা রোগটি গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন লিভার প্রতিস্থাপন অপরিহার্য হয়ে ওঠে। প্রতিস্থাপন প্রযুক্তির অগ্রগতি যার মধ্যে জীবিত দাতার মাধ্যমে প্রতিস্থাপন এবং প্রতিস্থাপন-পরবর্তী উন্নত সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এইসব চিকিৎসা প্রাপ্তির সুযোগ এবং চিকিৎসার ফলাফল উভয়কেই উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করে।

সংক্ষেপে বলা যায়, যদিও একসময় লিভার সিরোসিসকে একটি অপরিবর্তনীয় বা নিরাময়-অসাধ্য রোগ হিসেবে গণ্য করা হতো, তবে সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে প্রাপ্ত প্রমাণ নির্দেশ করে যে, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগকে প্রতিহত বা নিরাময় করা সম্ভব। লিভারের রোগের কারণসমূহ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের বিষয়টিকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে লিভারের সমস্যা থেকে মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব; পাশাপাশি এর ফলে লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা এড়ানো যায় এবং রোগীদের চিকিৎসার ফলাফল ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব হয়। হায়দ্রাবাদের ‘যশোদা হসপিটালস’-এর কনসালট্যান্ট গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট, থেরাপিউটিক এন্ডোস্কোপিস্ট এবং এন্ডোসোনোলজিস্ট ডা. আদি রাকেশ কুমার প্রতি মাসে নির্দিষ্ট তারিখে আমাদের কলকাতা (পশ্চিমবঙ্গ) কেন্দ্রে আসবেন এবং রোগীদের বিশেষ পরামর্শ ও চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করবেন। অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে অনুগ্রহ করে [০৮০৬৫৯০৬১১৪/ ০৮০৬৫৯০৬১৭৯] নম্বরে কল করুন, অথবা https://www.yashodahospitals.com/ লিঙ্কে গিয়ে অনলাইনে বুকিং করুন।