সুপ্রিম কোর্টের অস্বীকৃতির পর জামিনের জন্য গুয়াহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন পবন খেরা

২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল, সোমবার কংগ্রেস নেতা পবন খেরা আনুষ্ঠানিকভাবে গুয়াহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আসাম পুলিশের দায়ের করা একটি এফআইআর-এর (FIR) প্রেক্ষিতে তিনি আগাম জামিন প্রার্থনা করেছেন। সুপ্রিম কোর্টে বড় ধরনের আইনি ধাক্কা খাওয়ার পরেই খেরা এই পদক্ষেপ নিলেন; কারণ শীর্ষ আদালত সম্প্রতি তাকে গ্রেফতার থেকে রক্ষাকারী অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার মেয়াদ বাড়াতে কিংবা পূর্বের একটি ‘ট্রানজিট জামিন’ আদেশের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এই মামলার সূত্রপাত হয় গত ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলন থেকে। ওই সম্মেলনে খেরা অভিযোগ করেন যে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিনিকি ভূঁইয়া শর্মা একাধিক পাসপোর্টের অধিকারী এবং তিনি অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। শর্মা পরিবার অবশ্য খেরার এই দাবিগুলোকে “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বানোয়াট” আখ্যা দিয়ে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। খেরার এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, গুয়াহাটি ক্রাইম ব্রাঞ্চ তার বিরুদ্ধে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’-র বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা দায়ের করে; যার মধ্যে মানহানি, জালিয়াতি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো অভিযোগগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট প্রাথমিকভাবে খেরাকে স্বল্পমেয়াদী ‘ট্রানজিট জামিন’ মঞ্জুর করেছিল, কিন্তু আসাম সরকার আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করে যে, খেরা “ফোরাম শপিং” (সুবিধাজনক আদালত খোঁজা) এবং “বানোয়াট নথিপত্র” ব্যবহারের মাধ্যমে ওই আইনি সুবিধা আদায় করেছেন—আর এই যুক্তির প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে। গত শুক্রবার, বিচারপতি জে.কে. মহেশ্বরীর নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ খেরাকে আসামের সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারভুক্ত আদালতে (jurisdictional court) যাওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালত এও জোর দিয়ে উল্লেখ করে যে, শীর্ষ আদালতের কোনো পর্যবেক্ষণ দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে স্থানীয় বিচার বিভাগকেই মামলার নিজস্ব গুণাগুণের ভিত্তিতে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হবে। প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভির নেতৃত্বে খেরার আইনি দল বরাবরই দাবি করে আসছে যে, এই মামলাটি মূলত ভিন্নমত বা বিরোধিতার কণ্ঠরোধ করার উদ্দেশ্যে সাজানো একটি “রাজনৈতিক প্রতিহিংসার” নামান্তর। গুয়াহাটি হাইকোর্টে এখন জামিন আবেদনটি দায়ের করা হয়ে যাওয়ায়, সবার দৃষ্টি এখন আদালতের আসন্ন শুনানির দিকে নিবদ্ধ। এখন দেখার বিষয় হলো—কংগ্রেসের এই মুখপাত্র আদালতের সুরক্ষা লাভ করেন, নাকি আসাম পুলিশের হাতে অবিলম্বে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের (custodial interrogation) মুখোমুখি হতে হয়।