দুগ্ধ ও পোলট্রি খামারে পশুকল্যাণ নিয়ে উদ্বেগ, সেন্টিয়েন্টের রিপোর্টে একাধিক সমস্যা

ভারতের দুগ্ধ ও পোলট্রি শিল্পে পশুকল্যাণের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেছে সেন্টিয়েন্টের একাধিক অনুসন্ধান। ছোট দুগ্ধ খামার থেকে শুরু করে প্রায় ২ লক্ষ ডিম পাড়া মুরগি রাখার ক্ষমতাসম্পন্ন বড় পোলট্রি খামারেও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দুগ্ধ খামার নিয়ে অনুসন্ধানে চণ্ডীগড়, পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও ছত্তিশগড়ের ১০০টিরও বেশি খামার পরিদর্শন করা হয়। খামারগুলিতে ১০ থেকে ৫০০টি পর্যন্ত পশু ছিল, গড়ে প্রতি খামারে প্রায় ৫০টি। অনুসন্ধানকারীদের দাবি, সেখানে পশুদের গাদাগাদি করে রাখা, দীর্ঘ সময় বেঁধে রাখা, ক্ষতস্থানের চিকিৎসা না করা, ত্বকের সংক্রমণ এবং বাছুরদের পর্যাপ্ত আশ্রয়ের অভাবের মতো সমস্যা দেখা গিয়েছে।

অন্যদিকে, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর ২১টি ডিম উৎপাদনকারী মুরগির খামারে অনুসন্ধান চালানো হয়। খামারগুলিতে প্রায় ৩ হাজার থেকে ২ লক্ষ পর্যন্ত মুরগি রাখার ব্যবস্থা ছিল। সবকটিতেই ব্যাটারি কেজ বা খাঁচাবন্দি পদ্ধতিতে মুরগি পালন করা হত। অনুসন্ধানকারীদের দাবি, সেখানে অতিরিক্ত ভিড়, মুরগির আঘাত, নিজেদের মধ্যে লড়াই, শারীরিক দুর্বলতা এবং নিয়মিত ঠোঁটের অগ্রভাগ কেটে দেওয়ার মতো ঘটনা সামনে এসেছে। অনুসন্ধানে দুগ্ধ খামারগুলিতে পশুচিকিৎসা পরিষেবা, টিকাকরণ, বিমা ও সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রেও ঘাটতির কথা উঠে এসেছে। পাশাপাশি, পোলট্রি খামারগুলিতে জীবাণু সংক্রমণ রোধে জৈব-নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা দেখা গিয়েছে। মধ্যপ্রদেশের কয়েকটি খামারে নিয়মকানুন মেনে চলা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনুসন্ধানকারীরা।

পশ্চিমবঙ্গের দুগ্ধ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পোলট্রি শিল্পের ক্ষেত্রেও এই রিপোর্টের গুরুত্ব রয়েছে। পশুকল্যাণ নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত পশুচিকিৎসার ব্যবস্থা এবং দায়িত্বশীল উৎপাদন পদ্ধতি অনুসরণের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যেও এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে খামারগুলিতে নিয়মিত পরিদর্শন, বিদ্যমান নিয়ম ও মানদণ্ডের কঠোর বাস্তবায়ন এবং পশুপালন কেন্দ্রগুলির জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সেন্টিয়েন্ট।