অ্যাক্সিস ব্যাংক আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ১৫.১৯ লক্ষ চারাগাছ রোপণ করে তার পরিবেশবান্ধব কর্মপরিধি প্রসারিত করেছে

আন্তর্জাতিক অরণ্য দিবস উপলক্ষ্যে, অ্যাক্সিস ব্যাংক অসম ও পশ্চিমবঙ্গে চলমান ল্যান্ডস্কেপ রেস্টোরেশন উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়ে পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রতি তাদের অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে উভয় রাজ্যের বেশ কিছু পরিবেশের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল অঞ্চলের ৯৬৯ হেক্টরেরও বেশি জমিতে ১৫.১৯ লক্ষেরও বেশি চারা রোপণ করে বড় আকারে বনাঞ্চল পুনরুদ্ধারের কাজ চালানো হচ্ছে। অসমের এই উদ্যোগটি মাজুলী জেলার কার্তিক চাপোরি অঞ্চলের অবক্ষয় হওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধারের ওপর আলোকপাত করে, যা একটি সাংস্কৃতিকভাবে এবং পরিবেশের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ নদী-দ্বীপে গড়ে ওঠা বাস্তুতন্ত্র। বালিপাড়া ট্রাক্ট অ্যান্ড ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন (BTFF)-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে বাস্তবায়িত এই কর্মসূচীর লক্ষ্য হলো বনাঞ্চল পুনরুদ্ধার এবং কৃষি-বনায়ন-এর (অ্যাগ্রো-ফরেস্ট্রি) হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বনের প্রান্তিক অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং পরিবেশগত স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালী করা। এই উদ্যোগটি দুটি পর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার লক্ষ্য হলো ৭৮৫ হেক্টরেরও বেশি অবক্ষয় হওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধার করা এবং এর পাশাপাশি ৬৫ হেক্টর কৃষি-বনায়নে সহায়তা করা। এটি পরিবেশের সংযোগ উন্নত করতে সাহায্য করবে এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য টেকসই জীবিকার ব্যবস্থা করবে।

অ্যাক্সিস ব্যাংক পশ্চিমবঙ্গে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট সুন্দরবনের পরিবেশের দিক থেকে ভঙ্গুর বদ্বীপ অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করছে। নেচার এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সোসাইটি-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে বাস্তবায়িত এই কর্মসূচিটি জলাভূমি পুনরুদ্ধার এবং সমৃদ্ধ ম্যানগ্রোভ অঞ্চল রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়, যা উপকূল অঞ্চলে সুরক্ষা জোরদার করতে, কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে এবং জীবিকা ও জীবনধারণের জন্য বনের ওপর নির্ভরশীল অসংখ্য জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, ব্যাংক প্রায় ১১৯ হেক্টর জুড়ে ৭.১৪ লক্ষেরও বেশি ম্যানগ্রোভ চারা রোপণে সহায়তা করছে। এটি ব্যাংকের আগের পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টারই একটি বর্ধিত রূপ, যেখানে স্থানীয় সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিচালিত নার্সারির মাধ্যমে ৫০,০০০ ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ করা হয়েছিল। এই উদ্যোগের মধ্যে জলাভূমি পুনরুদ্ধার এবং প্রাকৃতিক উপকূলীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের হোলসেল ব্যাংক কভারেজ, কর্পোরেট স্যালারি, সাসটেইনেবিলিটি এবং সিএসআর-এর গ্রুপ এক্সিকিউটিভ বিজয় মুলবাগল জোর দিয়ে বলেন, “আমরা অ্যাক্সিস ব্যাংকে বিশ্বাস করি যে, অবক্ষয় হওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধার করা একইসঙ্গে একটি পরিবেশগত দায়িত্ব এবং জনকেন্দ্রিক সুযোগও বটে। আমাদের পরিবেশ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাগুলি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি সেই সব সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানো যায় যারা তাদের জীবিকার জন্য এই বাস্তুতন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। ভারতের বিপন্ন অঞ্চলগুলোতে দীর্ঘমেয়াদী ও জন-অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের জলবায়ু এবং জীববৈচিত্র্যের কাজগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক ও পরিবেশগত মূল্য তৈরি করা।”