মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য পরিকল্পনার খবরে বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে একটি কার্যকর কূটনৈতিক রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে, যার প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই মার্কিন স্টক ফিউচার বা আগাম শেয়ার বাজারে বড় ধরনের উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হলে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা কমবে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরায় স্বাভাবিক হবে। ট্রাম্পের এই “শান্তি উদ্যোগ” দীর্ঘদিনের সংঘাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি বড় আশীর্বাদ হয়ে আসতে পারে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে যে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছিল, যুদ্ধ থামলে তা নিয়ন্ত্রণে আসা সহজ হবে। বিশেষ করে ট্রাম্প যদি সফলভাবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে পারেন এবং হরমুজ প্রণালীসহ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন, তবে বিশ্ববাজারে পণ্যের পরিবহন খরচ নাটকীয়ভাবে কমে আসবে। শেয়ার বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা মূলত বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন, যারা বিশ্বাস করেন যে সংঘাতের অবসান ঘটলে বড় বড় কোম্পানিগুলোর উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং মুনাফা বৃদ্ধি পাবে। যদিও এই শান্তি প্রক্রিয়া এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বিরোধী পক্ষগুলোর সম্মতির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে, তবুও ট্রাম্পের এই অনমনীয় কূটনৈতিক অবস্থান ওয়াল স্ট্রিট থেকে শুরু করে এশীয় বাজার পর্যন্ত এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে। আগামী দিনগুলোতে এই আলোচনা ফলপ্রসূ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি বড় ধরনের তেজিভাব বা ‘বুল রান’ দেখা যেতে পারে।
