ভোটার তালিকা যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় এবার শুনানি কেন্দ্রগুলিতে কড়া নিয়মে শুনানি হবে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, যেসব ভোটারকে শুনানির জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তাঁদের শুনানি নির্দিষ্ট শুনানি কেন্দ্রে নেওয়া হবে।
শুনানি কেন্দ্রে উপস্থিত ভোটারের সই নেওয়া হবে এবং একই সঙ্গে তাঁর ছবি তোলা হবে। এই সই ও ছবি সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে আপলোড করা হবে।
আপলোড করা তথ্য যাচাই করে দেখা হবে, সই ও ছবি সংশ্লিষ্ট ভোটারেরই কি না। এই সমস্ত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট জেলার ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার তথা জেলাশাসকের কাছে পৌঁছে যাবে। ভোটার যে নথি জমা দেবেন, সেই নথি আসল, ভুয়া না কি অসত্য—তা খতিয়ে দেখে পাঁচ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিয়ে জানাতে হবে সংশ্লিষ্ট জেলার ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার বা জেলাশাসককে।
শুনানি কেন্দ্রের ভেতরে কড়া প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ রাখা হবে। শুনানির সময় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট ভোটার, বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও), অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও), ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও), মাইক্রো অবজারভার, ইলেক্টোরাল রোল অবজারভার এবং মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক উপস্থিত থাকতে পারবেন। এই তালিকার বাইরে আর কাউকে শুনানি কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
বিশেষভাবে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টদের শুনানি কেন্দ্রের বাইরে থাকতে হবে। কোনওভাবেই তাঁদের শুনানি কেন্দ্রের ভেতরে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে পুরো শুনানি প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফিও করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান ভোটার তালিকার মিল না থাকায় প্রায় ৩২ লক্ষ ভোটারকে নোটিশ পাঠিয়েছে Election Commission of India। ওই ভোটারদের ক্ষেত্রেই এবার শুনানি প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করা সম্ভব হবে।
প্রত্যেকটি বিধানসভায় ১১ টি টেবিল/কেন্দ্র করা হচ্ছে। ২৯৪ টি বিধানসভার জন্য ২৯৪×১১= ৩২৩৪ টি শুনানি কেন্দ্র করা হয়েছে। বিডিও এসডিও জেলাশাসকের বা সরকারি দফতরে করতে হবে শুনানি কেন্দ্র। যেসব এলাকায় সরকারি দফতর বিডিও, sdo অফিস নেই বিশেষ অনুমতিতে তারা স্কুল-কলেজে শুনানি কেন্দ্র করছে। তার অনুমতি দিয়েছে সিইও দফতর। সর্বোচ্চ ১৫০ জনকে প্রতিদিন ডাকা হচ্ছে শুনানির জন্য।
