প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন ২০১৪ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় (ইউএনজিএ) “আন্তর্জাতিক যোগ দিবস”-এর প্রস্তাব রেখেছিলেন, তখন খুব কম লোকই কল্পনা করতে পেরেছিলেন যে রেকর্ড ১৭৭টি দেশের সমর্থনে মাত্র ৯০ দিনের মধ্যে এই প্রস্তাবটি গৃহীত হবে। ১১ ডিসেম্বর ২০১৪-এ রাষ্ট্রপুঞ্জ ২১ জুন-কে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা কেবল ভারতের জন্য একটি কূটনৈতিক জয় নয়; বরং এটি আধুনিক ইতিহাসে ভারতের সাংস্কৃতিক “সফট পাওয়ার”-এর অন্যতম বৃহত্তম গ্লোবাল প্রসারের সূচনা চিহ্নিত করেছিল। গত ১২ বছরের যাত্রা এই সাক্ষ্য বহন করে যে, যোগ এখন আর মাত্র কয়েকজন তপস্বী বা ফিটনেস স্টুডিওর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি বিশ্বের জন্য একটি যৌথ সাংস্কৃতিক ভাষায় রূপান্তরিত হয়েছে। ভারতের আয়ুষ মন্ত্রক যেখানে যোগকে দেশের প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলতে কাজ করেছে, অন্যদিকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এবং বিশ্বজুড়ে থাকা ভারতীয় মিশন, দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলি এটিকে বিশ্বব্যাপী কূটনীতির একটি অত্যন্ত কার্যকরী হাতিয়ারে পরিণত করেছে।
বিদেশে ভারতীয় মিশনগুলির সক্রিয় প্রচেষ্টার কল্যাণে, প্রতি বছর হাজার হাজার বিদেশি নাগরিককে প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের নীচে, নিউ ইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কোয়ারে, চিনের গ্রেট ওয়ালে এবং আর্জেন্টিনার অলিম্পিক পার্কে একযোগে “কমন যোগ প্রোটোকল” অনুশীলন করতে দেখা যায়। রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী মিশন যোগের মাধ্যমে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা প্রচার করতে নিয়মিতভাবে বিশ্বনেতা এবং প্রবীণ কূটনীতিকদের একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্মে একত্রিত করে। এটি ভারতের “বসুধৈব কুটুম্বকম” দর্শনের একটি বাস্তব বহিঃপ্রকাশ, যে দৃষ্টিভঙ্গিটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ক্রমশ আপন করে নিচ্ছে। এই ১২ বছর ধরে, ভারত সরকার এবং তার কূটনৈতিক মিশনগুলির প্রচেষ্টা কেবল ২১ জুনের উদযাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস-এর মাধ্যমে, ভারতীয় মিশনগুলি বিশ্বজুড়ে বছরব্যাপী যোগ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে যোগ চেয়ার এবং অ্যাকাডেমিক কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যা এই প্রাচীন বিদ্যাকে আরও বেশি বৈজ্ঞানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা প্রদান করেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের ছয়টি সরকারি ভাষায় যোগ নির্দেশিকাগুলির অনুবাদ যোগকে বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্র এবং জনস্বাস্থ্য নীতির অংশ হতে আরও বেশি সক্ষম করে তুলেছে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, বিগত ১২ বছরে ভারত এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে বিশ্বব্যাপী সুস্থতার জন্য বিশ্বের বৃহত্তম আন্দোলনে রূপান্তরিত করেছে। এমন এক সময়ে যখন বিশ্বজুড়ে সমাজ মানসিক চাপ এবং জীবনযাত্রা-সম্পর্কিত নানা অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছে, তখন বিশ্বব্যাপী ভারতীয় মিশনগুলির দূরদর্শী প্রচেষ্টা এবং ভারতের “যোগ কূটনীতি” জাতীয় সীমানা অতিক্রম করে গিয়েছে। এটি একটি অনস্বীকার্য সত্য যে, এই প্রাচীন ঐতিহ্যের মাধ্যমে ভারতের সাংস্কৃতিক “সফট পাওয়ার” কেবল বিশ্বব্যাপী সুস্থতার জন্য একটি নতুন দিকনির্দেশনাই দেয়নি, বরং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ও জয় করেছে।
