বিশ্বজুড়ে অভূতপূর্ব উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ২১ জুন উদযাপিত হলো দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। ভারতের মূল অনুষ্ঠানটি পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় হলেও, দেশের এই অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে সুদূর আন্তর্জাতিক সীমানার ওপারেও। এ বছরের বিশ্বব্যাপী উদযাপনের মূল ভাবনা ছিল “সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ”, যা সব বয়সের মানুষকে সক্রিয় ও রোগমুক্ত জীবনযাপনের জন্য অনুপ্রাণিত করে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এবং আইসিসিআর-এর যৌথ সহায়তায় বিশ্বজুড়ে ২১০টিরও বেশি ভারতীয় মিশন ও দূতাবাস প্রায় ২৫০০-এরও বেশি ঐতিহাসিক ও পাবলিক প্লেসে বিশাল যোগ শিবিরের আয়োজন করে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইকনিক লিঙ্কন মেমোরিয়ালে রাষ্ট্রদূত বিনয় কোয়াত্রার উপস্থিতিতে এবং নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যোগগুরু এইচ. আর. নগেন্দ্রর পরিচালনায় দুটি বিশাল যোগ সমাবেশ আয়োজিত হয়। সেখানে ঐতিহ্যবাহী সুস্থতার বার্তা দিতে বিশেষ ‘আয়ুর্বেদ কর্নার’ স্থাপন করা হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ ভারতীয় দূতাবাস জানায়, এই আয়োজন ওয়াশিংটন ডিসির প্রতিটি কোণায় যোগের চেতনাকে পৌঁছে দিয়েছে।
আমেরিকার বাইরে সাংহাইয়ের বুন্ড ফাইন্যান্স সেন্টার, টরন্টোর অন্টারিও লেজিসলেটিভ বিল্ডিং, যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম এবং জার্মানি ও সুইডেনেও উন্মুক্ত স্থানে যোগ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে আয়োজিত যোগ উৎসবে প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সেশন এবং ভারতীয় সংস্কৃতির প্রদর্শনীর ব্যবস্থা ছিল।
ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য কাটিয়ে সারা বিশ্বের মানুষ জাতিসংঘের ছয়টি সরকারি ভাষায় অনূদিত ‘কমন যোগ প্রোটোকল’ মেনে একযোগে যোগ ও প্রাণায়াম অনুশীলন করেন। বিদেশি মাটিতে সাধারণ মানুষের এই বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ভারতের যোগ আজ আর কোনো একদিনের প্রতীকী উদযাপন নয়, বরং তা বিশ্বজুড়ে মানুষের কর্মক্ষেত্র ও জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সুস্থতার এক বিশ্বব্যাপী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
যোগ দিবসে নিউ ইয়র্ক থেকে সাংহাইয়ে ব্যাপক অংশগ্রহণ
