উদ্বেগের চিত্র আসামে: শিক্ষক অপকর্মে ৩৫ শতাংশই যৌন নিপীড়ন, বাড়ছে মামলার সংখ্যা

আসামের শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অসদাচরণের আশঙ্কাজনক উত্থান পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে ৩৫ শতাংশই যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত, যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই পরিসংখ্যানটি কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার নৈতিক অবক্ষয়ের এক করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। অভিভাবক ও সচেতন মহল এই তথ্যে স্তম্ভিত, কারণ যেখানে শিক্ষকদের সমাজ গড়ার কারিগর হিসেবে দেখা হয়, সেখানে তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের বিরুদ্ধে এমন জঘন্য অপরাধের অভিযোগ আসছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আসা অসদাচরণের মামলার হার কেবল বৃদ্ধিই পায়নি, বরং অপরাধের ধরনেও এসেছে নেতিবাচক পরিবর্তন। যৌন হয়রানি ছাড়াও শারীরিক নির্যাতন এবং মানসিক নিগ্রহের মতো বিষয়গুলোও সামনে আসছে। প্রশাসন ও শিক্ষা দপ্তর এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনোভাবেই এ ধরনের অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং দোষী সাব্যস্ত হলে তাৎক্ষণিক বরখাস্তসহ আইনি শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল শাস্তি দিয়ে এই ব্যাধি নির্মূল করা সম্ভব নয়; বরং শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নিয়মিত নৈতিক প্রশিক্ষণ প্রদান জরুরি হয়ে পড়েছে। এছাড়া প্রতিটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ জানানোর জন্য একটি নিরাপদ ও গোপন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, যাতে তারা ভয় না পেয়ে সত্য বলতে পারে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষা দপ্তর যৌথভাবে এই সামাজিক সংকট উত্তরণে বিশেষ সেল গঠনের পরিকল্পনা করছেন। সরকার ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে স্কুলগুলোকে আবারো ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে তুলতে এবং এই কলঙ্কজনক অধ্যায়ের অবসান ঘটাতে।