২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় বীরভূমের রাজনৈতিক সমীকরণ ও ভোটদানের চিত্র এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা গড়াতেই বোলপুরের চেনা মেজাজে দেখা গেল তৃণমূলের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে। মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলকে সঙ্গে নিয়ে বোলপুর ভাগবত নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি। ভোটদান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক ফলাফল নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ভবিষ্যৎবাণী করেন বীরভূমের এই ‘কেষ্ট’।
অনুব্রত মণ্ডলের দাবি, এবারের নির্বাচনে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ২৩০টিরও বেশি আসন জয় করে পুনরায় সরকার গঠন করবে। বীরভূম জেলার আসন বিন্যাস প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান যে, জেলার সবকটি আসনই তৃণমূলের দখলে থাকবে। তাঁর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেমনটা চেয়েছিলেন, ঠিক তেমনভাবেই রাজ্যে এবার শান্তিপূর্ণ ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। অনুব্রতর কথায়, “মমতা-অভিষেক যেমন চেয়েছিলেন, বাংলা জুড়ে মানুষ ঠিক সেভাবেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং শান্তিতে ভোট দিচ্ছেন।”
উল্লেখ্য, এক সময় অনুব্রত মণ্ডলের মুখে ‘চড়াম-চড়াম’ ঢাকের বাদ্যি কিংবা ‘গুড়-বাতাসা’ ও ‘নকুলদানা’র মতো দাওয়াই শোনা যেত ভোটের আবহে। কিন্তু ২০২৬-এর এই নির্বাচনে সেই ছবি অনেকটাই পরিবর্তিত। বীরভূমের রাজনৈতিক মাটি এবার অনেক বেশি শান্ত-শিষ্ট। ভোটকেন্দ্রগুলোতে বড়সড় কোনো অশান্তির খবর পাওয়া যায়নি। কেষ্টগড়ের এই শান্ত পরিবেশকে গণতন্ত্রের জয় হিসেবেই দেখছেন তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব।
ভোটকেন্দ্র থেকে বেরোনোর সময় অনুব্রত মণ্ডলের চোখেমুখে জয়ের ব্যাপারে কোনো সংশয় ছিল না। সুকন্যা মণ্ডলকেও দেখা যায় বাবার পাশেই। অনুব্রত যোগ করেন, সাধারণ মানুষ উন্নয়ন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনহিতকর প্রকল্পের ওপর আস্থা রেখেই তৃণমূলকে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেবে। প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিনে তাঁর এই ‘ম্যাজিক ফিগার’ নিয়ে করা মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনুব্রতর এই ২৩০ আসনের দাবি কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার একটি কৌশল হতে পারে। তবে বীরভূমের সমস্ত আসন তৃণমূলের দখলে থাকে কি না, তা জানতে এখন কেবল গণনা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। শান্তি ও উন্নয়নের বার্তাকে হাতিয়ার করেই অনুব্রত মণ্ডল তাঁর গড় রক্ষা করতে কতটা সফল হন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
