রান্নাঘরে বড় বদল: সুযোগ থাকলে পিএনজি বাধ্যতামূলক, না নিলে ৩ মাসে বন্ধ হবে এলপিজি!

রান্নাঘরের জ্বালানি নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার থেকে যেখানে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস বা পিএনজি (PNG) পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে বাধ্যতামূলকভাবে সেই সংযোগ নিতে হবে। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ পিএনজি না নিয়ে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার চালিয়ে যান, তবে তিন মাসের মধ্যে তাঁর এলপিজি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের জারি করা এই নতুন নির্দেশিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। বিস্তারিত জানাচ্ছেন আমাদের প্রতিনিধি।

বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার অস্থির যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি এলপিজি-র জোগানেও টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারত তার মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। আমদানির ওপর এই অতি-নির্ভরতা কমাতে এবং দেশের রান্নার গ্যাস পরিষেবাকে আরও স্থিতিশীল করতে মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ কেন্দ্রীয় সরকার ‘প্রাকৃতিক গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিতরণ নির্দেশিকা, ২০২৬’ জারি করেছে।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের বিশেষ সচিব সুজাতা শর্মা এবং তৈল সচিব নীরজ মিত্তল স্পষ্ট জানিয়েছেন, পিএনজি দেশের ভেতরেই উৎপন্ন হয় এবং এর উৎস অনেক। ফলে আন্তর্জাতিক সঙ্কটের সময়েও পিএনজি পরিষেবায় টান পড়ার সম্ভাবনা কম। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার বর্তমান বিশ্ব-সঙ্কটকে একটি দীর্ঘমেয়াদী সুযোগে পরিণত করতে চাইছে।কেন্দ্রের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব এলাকায় পিএনজি পরিকাঠামো তৈরি আছে বা প্রযুক্তিগতভাবে সংযোগ দেওয়া সম্ভব, সেখানকার বাসিন্দাদের পিএনজি-তে স্থানান্তরিত হতে হবে। যদি কোনও গ্রাহক এই সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এলপিজি ব্যবহার চালিয়ে যেতে চান, তবে আগামী তিন মাসের মধ্যে তাঁর এলপিজি সিলিন্ডারের জোগান বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে যেসব এলাকায় এখনও প্রযুক্তিগত কারণে পাইপলাইন পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, সেখানে এলপিজি পরিষেবা আগের মতোই স্বাভাবিক থাকবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা এনওসি (NOC) সংগ্রহ করতে হতে পারে।সরকারের দাবি, পিএনজি এলপিজি-র তুলনায় অনেক বেশি সুবিধাজনক এবং নিরাপদ। এতে বারবার সিলিন্ডার বুকিং করার ঝামেলা নেই এবং ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন জোগান নিশ্চিত থাকে। গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে এবং প্রক্রিয়াটি দ্রুত করতে সরকার কড়া নির্দেশ দিয়েছে ।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্দেশিকার ফলে ভারতের বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় হবে। আমদানিকৃত এলপিজি-র ওপর নির্ভরতা কমলে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি পিএনজি ব্যবহারের ফলে রান্নাঘরের খরচও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছে সরকার।কেন্দ্রের এই নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হলে ভারতের শহরাঞ্চল ও আধা-শহরাঞ্চলের রান্নাঘরের চিত্রটা আমূল বদলে যাবে। যদিও সিলিন্ডার ছেড়ে পাইপলাইনের গ্যাসে অভ্যস্ত হতে সাধারণ মানুষের কিছুটা সময় লাগবে, তবুও নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবার স্বার্থে এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে সরকার।