আসাম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রথম দফার ভোটগ্রহণে একটি বিরল জনস্রোত দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, রাজ্যজুড়ে এবার রেকর্ডসংখ্যক ৮৫.৬৪ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে, যা আসামের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি মাইলফলক। গতকাল সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। আবহাওয়া ভালো ছিল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ায় ভোটাররা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের ভোট দিতে পেরেছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রাজ্যের ১২৬টি আসনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ছিল। ডিজিটাল প্রযুক্তির সফল ব্যবহার এবং ইভিএম-এর মাধ্যমে দ্রুত ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় কোনো বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়াই এই বিশাল কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চা বাগান অধ্যুষিত এলাকা থেকে শুরু করে ব্রহ্মপুত্র নদী তীরবর্তী চর অঞ্চল—সর্বত্রই ভোটদানের হার আশাব্যঞ্জক। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই উচ্চ ভোটদানের হারকে গণতন্ত্রের জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে বিরোধী জোটও একে পরিবর্তনের লক্ষণ বলে দাবি করছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে ভোটদাতাদের জন্য বিশেষ যাতায়াত ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল, যা এই রেকর্ড ভোটদানে সহায়তা করেছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কয়েক হাজার আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং ড্রোন দিয়ে স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারি করা হয়। গণতান্ত্রিক এই উৎসবের মাধ্যমে আসামের জনগণ আগামী পাঁচ বছরের জন্য তাদের ভবিষ্যৎ প্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন। এখন সকলের নজর আগামী ৪ মে ফলাফলের দিকে, যা নির্ধারণ করবে দিছপুরের কর্তৃত্ব কার হাতে যাচ্ছে।
