টাটা ট্রাস্টস মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ে অবস্থিত চ্যারিটি কমিশনারের দেওয়া ২ সেপ্টেম্বরের আদেশনামা গ্রহণ করেছে। এই আদেশের মাধ্যমে নওয়াজবাই রতন টাটা ট্রাস্টের (NRTT) ট্রাস্টি মি. বিজয় সিং-এর পক্ষ থেকে ১০ জুন তারিখে ইমেইলের মাধ্যমে জমা দেওয়া একটি অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ওই অভিযোগে ১৯৮৯ সালে NRTT থেকে মি. নভাল এইচ. টাটা-র কাছে টাটা সন্স প্রাইভেট লিমিটেডের ৮৩৩টি শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল। টাটা ট্রাস্টসের দাবি ছিল যে এই অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, প্রমাণহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। চ্যারিটি কমিশনারের এই আদেশের ফলে ট্রাস্টের সেই অবস্থানই চূড়ান্তভাবে সত্য বলে প্রমাণিত হলো। ট্রাস্টের মতে, এটি ছিল একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিদ্বেষপূর্ণ ও পূর্বপরিকল্পিত প্রচারের অংশ, যার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল টাটা ট্রাস্টসের মতো ১৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জনকল্যাণে নিবেদিত, বিশ্বস্ত ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানকে কালিমালিপ্ত করা।
চ্যারিটি কমিশনার বিস্তারিত পর্যালোচনার পর মিস্টার বিজয় সিং-এর অভিযোগটি পুরোপুরি খারিজ করে দেন। তিনি পর্যবেক্ষণ করেন যে মি. বিজয় সিং তাঁর ইমেইলটি ট্রাস্টের কাছে প্রকাশ করেননি, যা অন্যান্য ট্রাস্টি ও পুরো ট্রাস্টের কাছ থেকে তথ্য গোপন করার ইচ্ছাকে স্পষ্ট করে তোলে। তাঁর এই পদক্ষেপ ট্রাস্টের সুনাম ও মর্যাদাকে আঘাত করেছে এবং একজন ট্রাস্টির পক্ষে এই ধরনের আচরণ অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও অনুচিত। কমিশনার আরও বিস্ময় প্রকাশ করেন যে ৮ জুন বোর্ড সভায় মি. সিং নিজেই চ্যারিটি কমিশনারের সামনে NRTT-র পক্ষ উপস্থাপনের প্রস্তাবে সম্মতি দেন, অথচ এর ঠিক দু’দিন পরেই ১০ জুন তিনি একই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ এবং NRTT-র পেশ করা নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার পর চ্যারিটি কমিশনার সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্তটি আইনগত দিক থেকে বাধ্য হয়েই নেওয়া হয়েছিল। সমস্ত বৈধ নথিপত্র মেনেই শেয়ার হস্তান্তরিত হয় এবং ওয়েলথ ট্যাক্স কমিশনারের নির্ধারিত মূল্যায়নের ভিত্তিতে ট্রাস্টকে যথোপযুক্ত অর্থ প্রদান করা হয়। এই লেনদেনে ট্রাস্ট লাভজনক অবস্থাতেই ছিল, যা ৩১ মার্চ ১৯৮৯ সালের ব্যালেন্স শিটেও সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত। উপরন্তু, শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে শর্ত ছিল যে এগুলি কোনও তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করা যাবে না এবং প্রাপকের পরিবারের মধ্যেই থাকবে।সামগ্রিকভাবে, তৎকালীন কার্যকর সমস্ত আইনি বিধান সম্পূর্ণ মেনেই এই হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছিল।
