ইন্ডিয়ান কনস্ট্রাকশন ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (ICEMA) নয়াদিল্লির হোটেল তাজ প্যালেসে বার্ষিক অধিবেশন 2026 আয়োজন করল। এবারের মূল বিষয় ছিল “যে যন্ত্রগুলি ভারতকে গড়ে তোলে— এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে সিই(সার্কুলার ইকোনমি)”। অনুষ্ঠানে ভারতের পরিকাঠামো উন্নয়ন, দেশীয় উৎপাদন এবং বিকশিত ভারত 2047-এ নির্মাণ সরঞ্জাম শিল্পের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এইচ. ডি. কুমারস্বামী, জি. কিষাণ রেড্ডি, নীতি আয়োগ-এর সদস্য ড. আর. বালাসুব্রামানিয়াম এবং সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদ আহমেদ। শিল্পের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ICEMA প্রেসিডেন্ট ও জেসিবি ইন্ডিয়া -এর সিইও দীপক শেঠি। বৈঠকে প্রস্তাবিত কনস্ট্রাকশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইকুইপমেন্ট (CIE) স্কিম, দেশেই যন্ত্রপাতি তৈরি, বিনিয়োগ বাড়ানো, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং 2030 সালের মধ্যে 3 বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা হয়। খনি ক্ষেত্রে এআই, ড্রোন, স্যাটেলাইট ম্যাপিং ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বিষয়ও উঠে আসে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এইচ. ডি. কুমারস্বামী জানান, সিআইই স্কিম-এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশের দেশীয় উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে। জি. কিষাণ রেড্ডি জানান, খনি ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার আগামী দিনে আরও বাড়বে। মাহমুদ আহমেদ বলেন, গত এক দশকে ভারতের জাতীয় সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় দেড় লক্ষ কিলোমিটারে পৌঁছেছে এবং সড়ক নির্মাণের গতি প্রায় তিনগুণ হয়েছে।
ভারত বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম নির্মাণ সরঞ্জাম বাজার। FY25-এ এই শিল্পের বাজার ছিল প্রায় 10 বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা 2030 সালে 15 বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। FY26-এ 1,36,995টি সরঞ্জাম বিক্রি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় 2% কম। তবে রপ্তানি প্রায় 32% বেড়েছে। সরকারের 12.2 লক্ষ কোটি সরকারি মূলধনী খরচ, দ্রুত প্রকল্পের কাজ এবং CIE Scheme-এর কারণে FY27-এ শিল্পের ফের বৃদ্ধির আশা করছে ICEMA। দেশীয় উৎপাদন, আত্মনির্ভরতা এবং বিশ্ববাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সরকার ও শিল্পের সঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
